Attempt to Murder

স্বামীর হাতে বেতন দিতে নারাজ স্ত্রী! বাসন্তীতে হাত-পা বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর নফরগঞ্জে গুরুতর জখম নাজমা শেখ বর্তমানে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত হাসান শেখ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, ক্যানিং
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৬

নিজের উপার্জনের টাকা স্বামীর হাতে তুলে দিতে রাজি হননি স্ত্রী। আর সেই কারণেই তাঁকে হাত-পা বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানা এলাকার নফরগঞ্জের এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন নাজমা শেখ। বর্তমানে তিনি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত হাসান শেখ। তাঁর খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।

নাজমা শেখ ও তাঁর স্বামী হাসান শেখ গড়িয়ার একটি দরজির দোকানে সেলাইয়ের কাজ করেন। দু’জনেরই আলাদা বেতন রয়েছে। অভিযোগ, প্রতি মাসে স্ত্রীর উপার্জনের টাকা নিজের হাতে নিতে চাইতেন হাসান। কিন্তু নিজের পরিশ্রমের টাকায় স্বামীকে ভাগ দিতে নাজমা রাজি ছিলেন না। এই বিষয়টি নিয়েই তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। একসময় দু’জনে আলাদা থাকতেও শুরু করেন।

অভিযোগ, সম্প্রতি মাছ দেওয়ার কথা বলে হাসান নাজমাকে দেখা করতে বলেন। স্বামীর কথায় বিশ্বাস করে ভরতগড় বাজারে তাঁর সঙ্গে নাজমা দেখা করতে যান। সেখান থেকে হাসান তাঁকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ, ওই বাড়ির একটি ঘরে নাজমাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। হাতুড়ি দিয়ে তাঁর দুই হাঁটুতে আঘাত করা হয়। পিঠেও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

নাজমার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে হাসান পালিয়ে যান। এরপর গুরুতর জখম অবস্থায় নাজমাকে উদ্ধার করে বাসন্তী ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নাজমার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামীর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।


Share