Manish Shukla Case

‘বিজেপি দফতরের সামনে গায়ে আগুন দেব’, কৌস্তুভের বাগচীর ক্ষোভের মুখে অর্জুন সিংহ

মণীশ শুক্ল খুনের মামলা ঘিরে ফের সরব কৌস্তুভ বাগচী, বিজেপির কয়েক জন নেতার সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ নিয়ে তুললেন প্রশ্ন।

(বাঁ দিক থেকে) অর্জুন সিংহ এবং কৌস্তভ বাগচী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৫

২০২০ সালে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লের খুনের ঘটনা ঘিরে ফের উত্তপ্ত ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক মহল। প্রায় ছ’বছর পর পুরনো সেই মামলা নিয়ে সরব হলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী। দলেরই কয়েক জন নেতার সঙ্গে মণীশের খুনের মামলায় নাম জড়ানো ব্যক্তিদের যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই ইস্যুতে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহকে নিশানা করার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিজেপির রাজ্য দফতরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন কৌস্তুভ।

২০২০ সালে উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গুলি করে খুন করা হয়েছিল বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লকে। সেই মামলাকে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যসচিব, সিআইডির ডিজি এবং ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি।

কৌস্তুভের অভিযোগ, মণীশের খুনের ঘটনায় যাঁদের নাম জড়িয়েছিল, তাঁদের কয়েক জনের সঙ্গে বর্তমানে বিজেপির কিছু নেতার যোগাযোগ রয়েছে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে অর্জুন সিংহ-সহ কয়েক জন নেতার সঙ্গে তাঁদের ছবি দেখিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে অর্জুনের প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, দলের নেতাদের সঙ্গে এমন ব্যক্তিদের ছবি দেখা অস্বস্তিকর।

একই সঙ্গে প্রাক্তন দুই পুরপ্রধান উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন কৌস্তুভ। তাঁর দাবি, কোনও পরিস্থিতিতেই তাঁদের দলে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়। নিজের রাজনৈতিক অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়ে তিনি প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে অর্জুন সিংহের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য দিকে, কৌস্তুভের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন মণীশের বাবা চন্দ্রমণি শুক্ল। তাঁর দাবি, মামলা লড়ার জন্য প্রথমে কৌস্তুভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রথমে রাজি হলেও পরে প্রাণের আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান। চন্দ্রমণির আরও অভিযোগ, মণীশের নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে, পুরনো খুনের মামলা ঘিরে বিজেপির অন্দরের এই সংঘাত নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। 


Share