Election Commission

১০ নভেম্বরের পরেই পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি? এসআইআরে লক্ষাধিক নাম বিচারাধীন, তড়িঘড়ি নির্বাচন ঘিরে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে বিরোধীরা

বৈঠককে ‘লোক দেখানো’ ও ‘প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম, কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূল। যদিও বিজেপির দাবি, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল খসড়া ভোটার তালিকা ও বুথ তালিকা রাজনৈতিক দলগুলির হাতে তুলে দেওয়া।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩৩

রাজ্যে পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ঘিরে তৎপরতা বাড়াল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আগামী ১০ নভেম্বরের পরেই পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তার আগে খসড়া ভোটার তালিকা ও বুথ তালিকা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করল কমিশন। তবে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন এবং ট্রাইব্যুনালে লক্ষাধিক ভোটারের নাম বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ভোট করানোর প্রস্তুতি ঘিরে তীব্র আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা। বৈঠককে ‘লোক দেখানো’ ও ‘প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম, কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূল। যদিও বিজেপির দাবি, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল খসড়া ভোটার তালিকা ও বুথ তালিকা রাজনৈতিক দলগুলির হাতে তুলে দেওয়া।

কমিশন সূত্রে খবর, সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হওয়ার কথা। তবে আইনি প্রক্রিয়া বা বিচারাধীন মামলার কারণে পুরভোটের প্রস্তুতি থামিয়ে রাখা যাবে না বলেই মনে করছে কমিশন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের সময়সীমা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।

সর্বদলীয় বৈঠকে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন সিপিএম প্রতিনিধি সুব্রত দত্ত। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকটি কার্যত ‘লোক দেখানো’। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের নামের নিষ্পত্তি না করেই পুরনো তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি খসড়া ভোটার তালিকায় দাবি ও আপত্তি জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ও বৈঠককে ‘প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, বোরো ও বুথ বিন্যাস এবং ওয়ার্ডগুলির সংরক্ষণ নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না দিয়েই তড়িঘড়ি নির্বাচনের পথে হাঁটছে কমিশন। শুনানি ও আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট করানোর উদ্যোগের বিরোধিতা করেন তিনি।

অন্য দিকে, মমতা তৃণমূলের প্রতিনিধি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এসআইআরের কারণে বাদ পড়া ১ লক্ষ ১৭ হাজার ভোটারের ভবিষ্যৎ এবং ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে তাঁদের প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি কমিশন। বৈঠকে ভিডিওগ্রাফি ও কার্যবিবরণী নথিভুক্ত না করার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। ২০২৪ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন করানোর দাবি জানিয়েছে ওই শিবির।

তবে বিজেপির প্রতিনিধি চিত্তরঞ্জন দে জানান, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল খসড়া ভোটার তালিকা ও বুথ তালিকা রাজনৈতিক দলগুলির হাতে তুলে দেওয়া। বিরোধীরা আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দলই তালিকা গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। ফলে পুরভোটের প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই ভোটার তালিকা ও নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে।


Share