House Collapse

চাণক্যপুরীতে মেসবাড়ি ধসকাণ্ডে গ্রেফতার বাড়ির মালিক, মৃত সাত! দিল্লি হাই কোর্টে জরুরি শুনানি

অবশেষে এ দিন তাঁকে ভিওয়াড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দিকে, বাড়িটি ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুরসভার পাঁচ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

দিল্লিতে মেস বাড়ি ভেঙে পড়ায় গ্রেফতার মালিক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ ০৫:২০

দক্ষিণ দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে পাঁচতলা মেসবাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় বাড়ির মালিক হরিরাম বনসলকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দুর্ঘটনায় পড়ুয়া-সহ সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জল গড়িয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট পর্যন্ত। সোমবারই জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। মৃতদের পরিবারকে অন্তত এক কোটি টাকা করে আর্থিক সাহায্য এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী। দুর্ঘটনার পর থেকেই হরিরামের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছিল। অবশেষে এ দিন তাঁকে ভিওয়াড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দিকে, বাড়িটি ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুরসভার পাঁচ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

দিল্লিতে মেসবাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা নিয়ে সোমবার উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন অনিকেত কুমার গুপ্ত নামে এক ব্যক্তি। দিল্লির সমস্ত পেইং গেস্ট ও হস্টেল ভবনের পরিকাঠামোগত নিরাপত্তা অবিলম্বে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, নিয়মিত এমন পরিদর্শনের ব্যবস্থারও দাবি জানানো হয়েছে।

ভবন ভেঙে পড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বেসমেন্টে চলা সংস্কারের কাজ এবং জল জমার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে দু’-তিন দিন ধরে এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল এবং বেসমেন্টে জল জমেছিল। তা সত্ত্বেও সংস্কারের কাজ চলছিল বলে অভিযোগ। বেসমেন্টের একটি দেওয়াল ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের একাংশের। মামলাকারীর বক্তব্য, ওই ধরনের ভবনে বেসমেন্টে সংস্কারের কাজের অনুমোদন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবনের মালিক, ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংস্কারকাজে যুক্ত শ্রমিকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

দিল্লিতে স্কুল-কলেজ, হস্টেল, মেসবাড়ি, হাসপাতাল ও নার্সিং হোম-সহ জনস্বার্থে ব্যবহৃত সমস্ত ভবনের নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সরকার নতুন নীতি আনছে। সোমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, এই নীতি কার্যকর করতে দিল্লি পুরসভার সঙ্গে সরকার যৌথ ভাবে কাজ করবে। প্রতিটি ভবনের নিরাপত্তা শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘অসুরক্ষিত পেইং গেস্ট বা হস্টেল ভবনে আমরা কাউকে থাকতে দেব না। চাণক্যপুরীর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের বাবা-মায়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাঁদের সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে।’’ পাশাপাশি, কোনও সরকারি কর্মী বা আধিকারিকের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন রেখা।


Share