Mothabari Incident

‘আমরা বলেছি তাই তদন্ত করবেন,’ মোথাবাড়িকান্ডের তদন্ত করবে এনআইএ, নতুন করে এফআইআর রুজু করতে দেওয়া হল অনুমতি

এনআইএ-র আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে যান। কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসেও তাঁরা যান। বালিগঞ্জে এক বিচারকের বাড়িতেও যান। এ দিন এনআইএ আদালতকে জানিয়েছে, তাঁরা মোট ৪৩২ জনের বয়ান নিয়েছে। তাঁদের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখেছে। ঘটনায় মোথাবাড়ি থানায় তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৪

মোথাবাড়িতে এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ঘটনার পরে প্রাথমিক তদন্তের পরে সোমবার শীর্ষ আদালতে রিপোর্ট জমা পড়েছে। তা খতিয়ে দেখেই এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএকে দেওয়া হয়েছে।

গত ১ মার্চ রাতে মালদহে মোথাবাড়িতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের গাড়িতে হামলার পরের দিন স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার সেই মামলার শুনানি ছিল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে। গত ২ মার্চ ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ-কে করানোর নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। পরে নির্বাচন কমিশন ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। 

এনআইএ-র আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে যান। কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসেও তাঁরা যান। বালিগঞ্জে এক বিচারকের বাড়িতেও যান। এ দিন এনআইএ আদালতকে জানিয়েছে, তাঁরা মোট ৪৩২ জনের বয়ান নিয়েছে। তাঁদের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখেছে। ঘটনায় মোথাবাড়ি থানায় তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। বাকি ন’টি এফআইআর কালিয়াচক-সহ একাধিক থানায় মোট ১২টি এফআইআর দায়ের হয়েছে।

এনআইএ-র আইনজীবী আদালতকে জানায়, এই সংস্থার কিছু এক্তিয়ার রয়েছে। নির্দিষ্ট আইনের আওতায় মধ‍্যে থেকে তদন্ত করতে পারে। কিন্তু সেদিন যে ঘটনা ঘটেছে তা এনআইএ-র আওতায় পড়ে না। শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আমরা বলেছি বলেই আপনারা তদন্ত করবেন। এতে অসুবিধা কোথায় আছে?” দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, যত এফআইআর পুলিশ করেছে, তার ওপর ভিত্তি করে পৃথক ভাবে এফআইআর দায়ের করতে পারবে এনআইএ। এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ করবে বলে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কাজ করা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর এমন ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছিল। সেই দিনের ভার্চুয়াল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে জানান, এই ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। এই ঘটনা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ নয়। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। যা শীর্ষ আদালত কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘আদালতের কর্তৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার একটা নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। আমরা জুডিশিয়াল অফিসারদের মনোবল ভাঙতে দেব না।’’

১২ ঘন্টা ধরে কী ভাবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা সেখানে আটকে পড়লেন, তা নিয়ে চড়ম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, বিকেল ৩টে থেকে সেখানে ঘেরাও চলে। কলকাতা হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল রাজ‍্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সেই ঘটনার খবর নিয়ে অবগত করেন। তা জানার পরেও প্রশাসন এতক্ষণ কেন কোনও ব‍্যবস্থা নেওয়া হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এতক্ষণ ধরে তাঁরা কী ভাবে ‘নিশ্চুপ’ ছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মুখ‍্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশের সুপারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা-ও তিনি জানতে চান। এই সমস্ত শীর্ষ কর্তাদের শোকজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, এ দিনের শুনানিতে প্রধান এ-ও বলে নির্দেশিকায় বলেছেন। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারা এই ঘটনার তদন্ত করবে তা অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়েছে, অবিলম্বে এসআইআরের কাজের সঙ্গে যুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁদের পরিবার এবং সম্পত্তির সুরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিতে বলেছে দেশের শীর্ষ আদালত।


Share