Suvendu Adhikari

মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক বিজেপি নেতার কুরুচিকর ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে আপলোড, সল্টলেক থেকে গ্রেফতার যুবক

সোমবার ধৃতকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে। বিচারক ধৃতকে আগামী ২৭ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ০৯:২৪

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং একাধিক রাজ‍্য বিজেপির শীর্ষ নেতার কুরুচিকর ভিডিয়ো আপলোড করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার ধৃতকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে। বিচারক আগামী ২৭ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গিয়েছে এই সমস্ত ভিডিয়ো নিয়ে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নন, রাজ‍্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে নিয়েও এমন ভিডিয়ো তাঁরা বানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা। গত ২১ মে তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, এমন ভিডিয়ো আপত্তিকর এবং মানহানিকর। তাই দোষীদের চিহ্নিত করে ব‍্যবস্থা নেওয়া হোক।

এর পরেই কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের গোয়েন্দারা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেন। তাঁরা পার্থ নাগ বলে এক যুবককে চিহ্নিত করেন। তাঁকে নেটিস দিয়ে ডাকা হয়। 

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, পার্থ ভিডিয়োটি গত ২০২৩ সালে নিজের সমাজমাধ‍্যমে আপলোড করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি মুছে দেন। পার্থ পুলিশকে জানান, তিনি রাজেশ চক্রবর্তী নামে এক যুবকের কথায় তিনি এই কাজ করেছিলেন। এমনকী, রাজেশ এই কাজ করার জন‍্য মাঝে মধ‍্যেই কোনও সময় ৫০০ টাকা আবার কখনও দু’হাজার টাকা করে পাঠাতেন। গোটাটাই রাজেশ ইউপিআইয়ের মাধ্যমে তাঁকে পাঠিয়েছিলেন বলে পুলিশকে জানায় পার্থ। পার্থ তৃণমূল কর্মী। তাঁর মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ‍্যাপে ‘কলকাতা ডিজিটাল যোদ্ধা’ নামে একটি গ্রুপের হদিশ মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এর পরেই রাজেশ চক্রবর্তীকে নোটিস পাঠায় পুলিশ। রাজেশ আদতে পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। বর্তমানে সল্টলেকে থাকেন। প্রথমবার তাঁকে নেটিস পাঠালে তিনি আসেননি। দ্বিতীয়বারের নোটিসে তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। 

পুলিশ সূত্রের খবর, তিনিও তৃণমূল কর্মী। তবে রাজেশ জিজ্ঞাসাবাদে কোনও সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। কেন পার্থকে টাকা পাঠিয়েছিলেন তার উত্তরও দিতে পারেননি। কে ভিডিয়ো তৈরি করতে বলেছিল, এই টাকার উৎস কী তা জানতে নিউ টাউনের বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়েছে। বিচারক ধৃতকে আগামী ২৭ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।


Share