Firoz Edulji

প্রয়াত কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি, দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি, আরজি কর মামলা লড়েছিলেন

ফিরোজের পরিবার সূত্রের খবর, ২০২২ সাল থেকে তিনি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তার তাঁকে এক বছরের বিশ্রাম দিয়েছিলেন। শারীরিক ভাবে কোথাও যেতে নিষেধ করেছিলেন।

প্রয়াত আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ০২:৩৭

প্রয়াত আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। তিনি কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। দীর্ঘদিন দিন ধরেই তিনি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার দুপুরে তিনি মারা গিয়েছেন। 

আইনজীবী মহলে তিনি অপরাধ সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন আইনজীবী ফিরোজ। তিনি আরজি কর কান্ডের মামলা লড়েছিলেন। বিজয় সিঙ্ঘলের দায়ের করা মামলায় আইনজীবী তিনিই ছিলেন। তাঁরই সওয়ালের প্রেক্ষিতে তৎকালীন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও, ফিরোজ ইডির হয়ে অনেক মামলা লড়েছেন। কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের মামলার সময় ইডির আইনজীবী ছিলেন। কামদুনি কাণ্ডের সময় সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন ফিরোজ এডুলজি।

আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি পার্সি ছিলেন। ২০২০ সালের পরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দক্ষিণবঙ্গ শাখার সহ-সভাপতিও হয়েছিলেন আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। তার পরে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, হিন্দু ধর্ম থেকেই জরাথুষ্ট ধর্মের সৃষ্টি হয়েছে। সনাতন ধর্ম আমাদের হৃদয়ে রয়েছে। হিন্দুরাও অগ্নিদেবতাকে পুজো করেন। আমরাও করি। হিন্দুদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তারই প্রচেষ্টা থাকবে। সিপিএম এবং তৃণমূল জমানায় হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হয়েছে বলেও তিনি ওই সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন।

যোগেশচন্দ্র ল’কলেজের সরস্বতী পুজো নিয়ে গত বছর কলকাতা হাই কোর্টে মামলা লড়েছিলেন ফিরোজ। তারও আগে ২০২০ সালে দুর্গাপুজো শোভাযাত্রা বন্ধের রাজ‍্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলায় লড়েছিলেন আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। সেই মামলাটি জিতেও ছিলেন তিনি। ধাক্কা খেয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। রাম মন্দির আন্দোলনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রয়াত আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি।

ফিরোজের পরিবার সূত্রের খবর, ২০২২ সাল থেকে তিনি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তার তাঁকে এক বছরের বিশ্রাম দিয়েছিলেন। শারীরিক ভাবে কোথাও যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু আইন তাঁর নেশা এবং পেশা। চিকিৎসকের কথায় কর্ণপাত করেননি। তা না শুনে তিনি হাই কোর্টে নিয়মিত মামলা লড়তে আসেন।

এরই মধ্যে ফিরোজ অসুস্থ হন। তাঁকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১০ দিন তিনি সেখানেই ভর্তি ছিলেন। গত শনিবার তিনি ভেন্টিলেশনে চলে যান। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। হাসপাতাল সূত্রের খবর, সোমবার ১২টা নাগাদ তাঁকে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।


Share