Accident

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত সিউড়ি, বজ্রাঘাতে মৃত্যু কিশোরী-সহ আরও একজনের

প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় এক কিশোরী ও এক প্রৌঢ়ের। ঝড়ে বহু বাড়ির চাল উড়ে যায়, ভেঙে পড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি, ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম
  • শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ০৩:১৮

রবিবার বিকেলে বীরভূমে আচমকাই কালবৈশাখী ঝড় ওঠে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সিউড়ি শহর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রবল ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিতে বহু বাড়ির চাল উড়ে যায়। গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে। একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। এই দুর্যোগের মধ্যেই বজ্রাঘাতে এক কিশোরী ও এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়।

 ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরীর নাম শ্রীচন্দনা দলুই (১২)। তাঁর বাড়ি মল্লিকপুর পঞ্চায়েতের চাকদহ গ্রামে। অন্যদিকে মৃত প্রৌঢ়ের নাম বদি মুর্মু (৫৩)। তিনি নগরী পঞ্চায়েতের নগরী কাটাবুনি এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়দের দাবি, রবিবার বিকেলে আচমকা আকাশ কালো করে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সময় শ্রীচন্দনা বাড়ির উঠানে বসেছিল। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হঠাৎ বিকট শব্দে তার একেবারে পাশেই বাজ পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সে অচৈতন্য হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে। সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতার মামা পূর্ণচন্দ্র দলুই জানান, “ও উঠানে বসেছিল। আচমকাই পাশেই বাজ পড়ে যায়। কীভাবে সব হয়ে গেল, আমরা বুঝতেই পারিনি।”

অন্য দিকে, একই সময় নগরীর কাটাবুনি এলাকায় মাঠে ছাগল চরাতে গিয়েছিলেন বদি মুর্মু। বিকেলের দিকে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করলে তিনি ছাগল নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন। অভিযোগ, সেই সময় খোলা মাঠের মধ্যেই তাঁর উপর বাজ পড়ে। ঘটনাস্থলেই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন। মাঠে থাকা অন্য চাষিরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের প্রতিবেশী আবির মারাণ্ডি বলেন, “আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়।”

এদিকে কালবৈশাখীর দাপটে সিউড়ি ও আশপাশের একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। বহু জায়গায় গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় দীর্ঘ সময় অন্ধকারে ডুবে থাকে বেশ কয়েকটি গ্রাম। লাভপুর ও নানুর এলাকাতেও গাছ ভাঙা এবং বাড়ির চাল উড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎ দফতর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে। পুলিশ মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।


Share