Chandra Nath Rath

ষড়যন্ত্র করেই খুন, চন্দ্রনাথ হত‍্যাকান্ডে ব‍্যবহৃত দু’টি মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ, নজরে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের ভূমিকা

পুলিশ সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথ রথের যাতায়াতের সময়, তাঁর দৈন্দদিন কাজ এবং কোন রাস্তা দিয়ে তিনি ফিরবেন— এই সমস্ত তথ্য আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তা বিশ্লেষণ করেই নিখুঁত ভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

চন্দ্রনাথ রথ নিহত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মধ্যমগ্রাম
  • শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ০৬:০৩

ষড়যন্ত্র করেই খুন করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। কী কারণে খুন করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধন্দ্বে রয়েছে পুলিশ। চারচাকা নিশান গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার পরে অপরাধে ব‍্যবহৃত দু’টি মোটরবাইক পুলিশ উদ্ধার করতে পেরেছে। তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, একটি মোটরবাইক বিমানবন্দরের আড়াই নম্বর গেটের কাছে একটি ভ‍্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই গাড়িটির মালিক দমদমের বাসিন্দা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, তাঁর মোটরবাইক কয়েক মাস আগে চুরি হয়ে গিয়েছিল। সেই সংক্রান্ত অভিযোগও থানায় দায়ের করেছিলেন তিনি। অপর মোটরবাইকটি বারাসতের ১১ নম্বর রেল গেটের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই গাড়িটির মালিকও 

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় অন্তত সাত থেকে আট জন জড়িত রয়েছেন বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। সিসি ক্যামেরায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি পিছনে একটি লাল চারচাকা গাড়িও দেখা গিয়েছে। সেই গাড়িটিও অপরাধে ব‍্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। তাঁরা মনে করছেন, প্রথমে নিশান মাইক্রা গাড়ি দিয়ে চন্দ্রের গাড়ি আটকানো হয়। পিছন থেকে চারচাকা গাড়ি থেকে নিখুঁত ভাবে চন্দ্রের গতিবিধি সম্পর্কে তথ‍্য সুপারি কিলারদের দিচ্ছিল। তার জন‍্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করা হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ওই গাড়িটি এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই গাড়িটি করেই বাকিরা পালিয়ে গিয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় ভিন রাজ্যের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। যে নিশান মাইক্রা গাড়ি ব্যবহার দুষ্কৃতীরা করেছিল, সেটি বিক্রির জন্য গাড়ির মালিক আগে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখেই উত্তরপ্রদেশের গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। 

তাই তদন্তে উত্তরপ্রদেশের দিকে নজর পুলিশের। এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে হামলাকারীদের আদৌ কোনও যোগ রয়েছে কি না। 

তবে শুধু বাইরের সুপারি কিলার নয়, স্থানীয় দুষ্কৃতীদেরও সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। নিউটাউন থেকে মধ্যমগ্রামের ত্রাস এক দুষ্কৃতীর নাম উঠছে। খুনের ঘটনার পর থেকে ওই দুষ্কৃতী পলাতক বলে দাবি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত করছে সাত সদস্যের এক বিশেষ তদন্তকারী দল। এই তদন্ত আরও মজবুত করতে মধ্যমগ্রাম থানার প্রাক্তন আইসি সতীনাথ চট্টরাজকেও তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তবে কেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে খুন করা হল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। 

পুলিশ সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথ রথের যাতায়াতের সময়, তাঁর দৈন্দদিন কাজ এবং কোন রাস্তা দিয়ে তিনি ফিরবেন— এই সমস্ত তথ্য আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তা বিশ্লেষণ করেই নিখুঁত ভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই স্থানীয় তিন দুষ্কৃতীকে আটক করে দফায় দফার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এলাকার পথঘাট সম্পর্কে স্থানীয় দুষ্কৃতীরা যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। তাই তাদের ভূমিকাও পুলিশের স্ক্যানারের নীচে।


Share