Chandra Nath Rath

বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্মী চন্দ্রনাথ তৃণমূলের সময় থেকেই শুভেন্দুর সঙ্গে, ছ’বছর আগে আপ্তসহায়ক হন চন্ডীপুরের ছেলে

চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের রাজনীতির যোগ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতোই তাঁর পরিবারও একসময় তৃণমূলে ছিল। তাঁর মা হাসিরানি রথ একসময় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ‍ও ছিলেন।

নিহত চন্দ্রনাথ রথ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মধ্যমগ্রাম
  • শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১২:২৩

তৃণমূলের সময় থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গী। তাঁর মতোই আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। জন্ম চণ্ডীপুরে। ১৯৮৪ সালের ১১ অগস্ট।

চন্দ্রনাথ রথ রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনার পাঠ শেষ করে ভারতীয় বায়ুসেনার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও পরিবারের সদস্যেরা জানাচ্ছেন, তাঁর সৈনিক নয়, সন্ন‍্যাসী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। দীর্ঘ ১৮ বছর বায়ুসেনায় চাকরি করার পরে স্বেচ্ছা অবসর নেন চন্দ্রনাথ। তারপরে একটি কর্পোরেট সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন।

চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের রাজনীতির যোগ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতোই তাঁর পরিবারও একসময় তৃণমূলে ছিল। তাঁর মা হাসিরানি রথ একসময় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ‍ও ছিলেন। তিনিও এখন বিজেপিতে রয়েছেন। শুভেন্দুর সঙ্গে চন্দ্রনাথের পরিবারের যোগাযোগ নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্ব থেকে। শুভেন্দু তৃণমূলের যোগ দেওয়ার পর থেকে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। হাসিরানিও তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে যান। 

নিহত চন্দ্রনাথ রথ অবশ্য তার আগে থেকেই শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী। ২০১৯ সালে শুভেন্দু রাজ‍্যের মন্ত্রী হলে জলসম্পদ দফতরের আপ্তসহায়ক করা হয়েছিল চন্দ্রনাথ রথকে। তার পর শুভেন্দু বিজেপিতে গেলে চন্দ্রনাথ তখন থেকেই ওঁর আপ্তসহায়ক ছিলেন। শুভেন্দু বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর দফতরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। জল্পনা ছিল, শুভেন্দু যদি মুখ্যমন্ত্রী হন, তা হলে তাঁর আপ্তসহায়কের দায়িত্ব পাবেন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথ। কিন্তু বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় সেই জল্পনায় ইতি টেনে দিল বাইক-আরোহী দুষ্কৃতীদের ‘বুলেট’।

ছেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ভেঙে পড়েছেন তাঁর বৃদ্ধা মা হাসিরানি রথ। তিনি এই ঘটানার নেপথ্যে তৃণমূলকেই দায়ী করেছেন। চন্দ্রনাথের মা বলেন, “তখন শাসকদলের নেতারা গরম-গরম বক্তৃতা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, চার তারিখের পর দিল্লির কোনও বাবা রক্ষা করতে পারবে না। সেটাই তাঁরা দেখিয়ে দিলেন।” রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন তিনি। চন্দ্রনাথের মায়ের কথায়, “নতুন সরকার যে গঠন করবে, তার কাছে অনুরোধ করব, আমার ছেলের মৃত্যুর শাস্তি হোক।” তিনি আরও বলেন, “দোষীরা শাস্তি পাক। আমি মা, তাই চাইব না ফাঁসি হোক। আমি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাইছি।”

হাসপাতাল চত্বর থেকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বলেন, “১৫ বছর ধরে রাজ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলেছে। বুধবারই খড়দহে বোমা, বরাহনগরে ছুরি ও বসিরহাটে গুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।” তিনি এ-ও বলেন, “চন্দ্রের সঙ্গে দূর-দূর পর্যন্ত রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। বেশ কয়েক দিন ধরে রেকি করে পরিকল্পনামাফিক ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। পুলিশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।” ঘটনার পর থেকেই সকাল পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী বারাসত হাসপাতালেই ছিলেন।


Share