Family Tragedy

মদ্যপ ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বৃদ্ধ বাবা-মা! আত্মরক্ষায় লাঠির আঘাত, গাইঘাটায় মৃত্যু ৩০ বছরের যুবকের

মদ্যপ ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা। বুধবার গাইঘাটার ঠাকুরনগরে আত্মরক্ষার চেষ্টায় ছেলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বাবা। মৃত্যু হয় ৩০ বছরের সুমন বিশ্বাসের। ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

প্রতীকী ছবি??
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫৬

মদ্যপানের টাকা না পেলে বাড়িতে চলত ভাঙচুর, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার। দীর্ঘদিন ধরে ছেলের এমন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের ছেলের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ালেন বৃদ্ধ বাবা। লাঠির আঘাতে মৃত্যু হল ৩০ বছরের যুবকের। বুধবার বিকেলে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার ঠাকুরনগরের বড়া কৃষ্ণনগর গ্রামে। মৃত যুবকের নাম সুমন বিশ্বাস। পেশায় তিনি রং মিস্ত্রি ছিলেন। ঘটনার তদন্তে নেমে তাঁর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমন বিশ্বাস পরিবারের একমাত্র ছেলে। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা সুমন্ত বিশ্বাস এবং মা থাকেন। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মদ্যপানের নেশায় আসক্ত ছিলেন সুমন। মদ খাওয়ার জন্য টাকা না পেলেই বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার চালাতেন তিনি। কখনও মারধর, কখনও আবার বাড়িতে ভাঙচুর চলত বলে অভিযোগ। ছেলের এমন আচরণে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হত বৃদ্ধ দম্পতিকে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবারও মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফেরেন সুমন। এরপরই বৃদ্ধ বাবা সুমন্ত বিশ্বাসের উপর চড়াও হন তিনি। শুরু হয় মারধর ও অত্যাচার। হৃদরোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবা নিজেকে বাঁচাতে হাতের কাছে থাকা একটি লাঠি দিয়ে ছেলেকে আঘাত করেন। সেই লাঠির আঘাত সুমনের মাথায় লাগে। আঘাত পাওয়ার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

প্রতিবেশীদের দাবি, মাথায় আঘাত লাগার জেরেই মৃত্যু হয়েছে সুমনের। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গাইঘাটা থানার পুলিশ। যুবকের দেহ উদ্ধার করে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তের স্বার্থে সুমনের বাবা সুমন্ত বিশ্বাসকে আটক করেছে পুলিশ। ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তির পরিণতিতেই এই মর্মান্তিক ঘটনা কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।


Share