Medical Scam

এনআরএসে ইন্টার্নদের ডিউটি কেনাবেচার অভিযোগ, ঘণ্টা প্রতি ২৫০ টাকার দর! ভাইরাল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ঘিরে শোরগোল

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তের সূত্রেই বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে ডিউটি বিক্রির ব্যবস্থা চলছিল বলে অভিযোগ, সেগুলির উপর নজর রাখছে স্বাস্থ্য দফতর।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০১:২৮

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় রোগীদের। কোথাও চিকিৎসকের অভাব, কোথাও আবার পরিষেবা পেতে হয়রানির অভিযোগ। এরই মধ্যে কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে সামনে এল আরও গুরুতর অভিযোগ। এ বার কাঠগড়ায় ইন্টার্নদের একাংশ। অভিযোগ, টাকা নিয়ে একে অন্যের ডিউটি করে দেওয়ার ব্যবস্থা চলছিল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। কোন বিভাগের ডিউটি কতক্ষণ, তার জন্য ঘণ্টাপ্রতি কত টাকা দিতে হবে, তা নিয়েও চলছিল দরাদরি। ভাইরাল হওয়া চ্যাটের স্ক্রিনশট সামনে আসতেই চিকিৎসক মহলে শুরু হয়েছে শোরগোল। প্রশ্ন উঠছে, প্রশিক্ষণপর্বে থাকা চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ও রোগীদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?

ভাইরাল হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপে রয়েছেন ২৬৬ জন ইন্টার্ন। অভিযোগ, সেখানে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে ডিউটি বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল। একটি কথোপকথনে দেখা যাচ্ছে, এক ইন্টার্নের রাত ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত নাইট ডিউটি রয়েছে। তিনি সেই ডিউটি করতে চান না বলে জানান। এর পর অন্য এক জন ওই ডিউটি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে ঘণ্টাপ্রতি ২৫০ টাকা করে দাবি করা হয়েছিল বলে চ্যাটে দেখা যাচ্ছে। তবে ভাইরাল হওয়া এই কথোপকথনের সত্যতা যাচাই করেনি এখন কলকাতা ডট কম।

অন্য একটি চ্যাটে আরও এক বিভাগে ডিউটি বদলের বিনিময়ে ঘণ্টাপ্রতি ২০০ টাকা পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই কথোপকথন সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, ইন্টার্নশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণপর্বে দায়িত্ব এড়িয়ে অর্থের বিনিময়ে অন্যকে দিয়ে ডিউটি করানোর চেষ্টা চলছিল কি না। এমন ঘটনা সত্যি হলে হাসপাতালের কাজকর্ম এবং চিকিৎসা পরিষেবার উপর তার প্রভাব কতটা পড়তে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের চিকিৎসক সদস্য দেবাশিস হালদার। তাঁর বক্তব্য, এমন অনৈতিক ব্যবস্থা চললে তার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সত্যিই যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তা হলে এত দিন ধরে তা কী ভাবে চলল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। বিভাগীয় প্রধান, হাসপাতালের সুপার বা অধ্যক্ষ বিষয়টি জানতেন কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তাঁর বক্তব্য। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি।

অন্য দিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তের সূত্রেই বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে ডিউটি বিক্রির ব্যবস্থা চলছিল বলে অভিযোগ, সেগুলির উপর নজর রাখছে স্বাস্থ্য দফতর। তিনি নিজেও বিষয়টি নজরে রাখছেন বলে জানিয়েছেন। গ্রুপের অ্যাডমিনদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ঘণ্টাপ্রতি টাকার বিনিময়ে ডিউটি বিক্রির এই ব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না।

এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসার জন্য আসেন বহু রোগী। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার উপর নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষের কাছে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় ইন্টার্নদের একাংশের বিরুদ্ধে ডিউটি কেনাবেচার অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে তাঁদের দায়িত্ববোধ এবং হাসপাতালের নজরদারি নিয়ে। তবে ভাইরাল হওয়া চ্যাটের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে কথোপকথনের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা নিরপেক্ষ তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।


Share