Explosive Seizure

দত্তপুকুরে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি উদ্ধার, গ্রেফতার মালিক রাকিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ যোগ রয়েছে বলে সূত্রের খবর

দত্তপুকুরে সাদা গাড়ি থেকে প্রায় তিন কেজি বিস্ফোরক ও ১০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার। গ্রেফতার গাড়ির মালিক রাকিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

দত্তপুকুরে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি উদ্ধার করল রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২১

পুজোর মরশুমে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি? দত্তপুকুরে যশোহর রোডের ধারে বিস্ফোরক বোঝাই একটি সাদা গাড়ি উদ্ধারের পর এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে তদন্তকারীদের মধ্যে। ঘটনায় গাড়ির মালিক রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড, এসটিএফ, এনআইএ এবং এনএসজির আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, সাদা গাড়িতে বিস্ফোরক পাচারের বিষয়ে আগে থেকেই খবর ছিল রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফের কাছে। সেই সূত্র ধরেই তল্লাশি চালিয়ে দত্তপুকুরের কাছে যশোহর রোডের ধারে গাড়িটির সন্ধান পান আধিকারিকরা। রাস্তার পাশে পার্ক করা গাড়িটিতে তখন কেউ ছিলেন না। তল্লাশি চালিয়ে প্রায় তিন কেজি বিস্ফোরক এবং প্রায় ১০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ স্প্লিন্টার ও অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।

ঘটনার পরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিরাপত্তার কারণে যশোহর রোড সংলগ্ন একাধিক রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুরু হয় গাড়ির মালিকের খোঁজ। তদন্তে নেমে রাতেই দত্তপুকুর থেকে রাকিবুলকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক নিয়ে গাড়িটির কলকাতার দিকে যাওয়ার কথা ছিল।

তদন্তকারীদের দাবি, একসময় মেকানিকের কাজ করতেন রাকিবুল। প্রায় ১০ বছর আগে মোটরবাইকের শোরুম খুলে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা, বিড়া এবং দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর চারটি শোরুম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কয়েক বছর আগে আমডাঙায় একটি মোটরবাইকের শোরুমে বিস্ফোরণের ঘটনাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

যশোহর রোডের কাছেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। রাকিবুলের বাংলাদেশে যাতায়াত ছিল বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে তদন্তকারী সংস্থা।

বারাসতের পুলিশ সুপার এম মার্সি জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। গাড়িতে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে নাশকতার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


Share