Drowning

বন্যার জলে স্নান করতে নেমে বিপত্তি, জলঙ্গিতে তলিয়ে মৃত্যু দুই কিশোরীর

স্থানীয়দের তৎপরতায় দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। কিন্তু আয়েশা খাতুন ও কুলছন খাতুন নামে দুই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:২৫

বন্যার জল দেখতে গিয়ে বিপত্তি। জলে তলিয়ে মৃত্যু চার কিশোরীর। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে ঘটনাটি ঘটেছে। বন্যার জমা জলে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যায় চার কিশোরী। স্থানীয়দের তৎপরতায় দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই কিশোরীর নাম আয়েশা খাতুন (১৩) এবং কুলছন খাতুন (১৩)। দু’জনেই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এবং একই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে চার কিশোরী একসঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চর পরাসপুর গ্রামের শিবিরের ঘাটে যায়। সেখানে বন্যার জমা জলে তারা স্নান করতে নামে। স্নানের সময় আচমকাই চার জন গভীর জলে তলিয়ে যেতে শুরু করে। বিপদ বুঝতে পেরে তারা চিৎকার করে সাহায্যের জন্য ডাকতে থাকে।

চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। চার কিশোরীকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। ঘোষপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য আবদুল মণ্ডল জানান, স্থানীয়দের চেষ্টায় দু’জনকে জল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে কুলছন ও আয়েশা জলের তলায় চলে যায়।

কুলছনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত সাদিখাঁরদিয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, আয়েশার খোঁজে দীর্ঘক্ষণ ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা জলে তল্লাশি চালান। পরে জলের মধ্য থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন।

উদ্ধার হওয়া বাকি দুই কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত তাদের চিকিৎসা চলছে। একইসঙ্গে দুই কিশোরীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও গোটা এলাকায়। এত অল্প বয়সে দুই কিশোরীর মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিজন ও প্রতিবেশীরা।


Share