Calcutta High Court

ধর্মতলার সভায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মমতার মন্তব্য, জনস্বার্থ মামলা খারিজ কলকাতা হাই কোর্টে

মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আদালত আগেই প্রশ্ন তুলেছিল। বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২০

ধর্মতলার সভা থেকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ঘিরে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আদালত আগেই প্রশ্ন তুলেছিল। বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।

নির্বাচনের পর মমতা গত ২ জুন ধর্মতলায় একটি সভায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন। যদিও তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে মামলাকারী-সহ কয়েকজনের দাবি, বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত করেছিলেন। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি জনৈক অভ্রতনু সরকার জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানিতে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। সে সময় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী প্রশ্ন করেছিলেন, “যে যা কিছু বলবেন, তা-ই (আদালতকে) শুনতে হবে? এটি কেন জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রাহ্য হবে?” উষ্মাপ্রকাশ করে তাঁর মন্তব্য, “আজকাল জনস্বার্থ মামলাকে একটি বিশেষ ‘টুল’ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

মমতার মামলার শুনানিতে প্রয়াত অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো একটি মামলার প্রসঙ্গও আদালত টেনে এনেছিল। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মন্তব্য করেছিল, “তাপস পালের মামলার কথা মনে আছে? সেখানে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।” উল্লেখ্য, ওই মামলার শুনানি হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টের যে ডিভিশন বেঞ্চে, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। সেই ঘটনাতেও তাপস পালের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল।

২ জুন ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসে মমতা বলেছিলেন, ‘‘বাংলাদেশের একটা বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভোলিউশন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার বলার অধিকার নেই।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু আমি যেটা বলছি, সেই পয়েন্টটা হল, তার পরে তারা মেঘালয় হয়ে বাংলায় চলে আসে। বাংলায় যখন চলে আসে, তখন আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে। এটা তাদের (এসটিএফ) ক্রেডিট। তার পরে হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলছেন। এত দিন তো বলিনি। মুখ খুলিনি। এখন অত্যাচারের শেষ সীমায় গিয়েছে বলে... আমি নাম বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না। আমি দেশকে ভালবাসি।’’

সেই সময় অনেকেই ধর্নাস্থলে বসে সেই নাম প্রকাশ করার দাবি তোলেন। মমতা বলেন, ‘‘না বলব না দেশের স্বার্থে। (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কী বললেন? ‘আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন, এই কথা যাতে বাইরে না বলে। এটা দেশের জন্য।’ কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ সরকার বদলালেও মনে রাখবেন আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয় কথা ভান্ডার, তথ্য ভান্ডার, সত্য ভান্ডার। সম্পদের ভয়ে কর্মীদের ভাসিয়ে দল ছেড়ে যাব না।’’


Share