Sumit Roy

জমি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তকে নিয়ে অভিযান! সুমিত রায়কে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি

পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় সুমিত দাবি করেছিলেন, কালীঘাটের ওই বাড়িতেই যাবতীয় টাকা লেনদেনের কাজ চলত। সেই দাবির সত্যতা যাচাই করতেই তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
সুমিত রায়কে নিয়ে তল্লাশি সিআইডির, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৫৩

জমি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তকে নিয়ে সিআইডির অভিযান। ধৃত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার কালীঘাটে সাংসদের বাড়িতে তল্লাশি চালাল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, বিপুল আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজতেই এই তল্লাশি অভিযান।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা নাগাদ সুমিতকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছোন। বাড়িটি ঘিরে ফেলে সুমিতকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তাঁকে একাধিক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে, বাড়ির কোন অংশে এবং কী ভাবে টাকা লেনদেন হত, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা তাঁর কাছে জানতে চান। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় সুমিত দাবি করেছিলেন, কালীঘাটের ওই বাড়িতেই যাবতীয় টাকা লেনদেনের কাজ চলত। সেই দাবির সত্যতা যাচাই করতেই তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এ সব আজেবাজে লোকের কথা বলব না। সামনে বিশ্বকর্মা পুজো। তার কথা বলুন।”

জমি দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই সুমিত রায় সিআইডির নজরে ছিলেন। তাঁর বাড়িতে প্রায় নয় থেকে ১০ বার তল্লাশিও চালানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর। শেষ পর্যন্ত চলতি মাসের ১০ তারিখ, সপ্তাহখানেক আগে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডি ও এসটিএফের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হলে তদন্তকারীদের হেফাজতে পাঠানো হয়।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক বেআইনি কাজের সঙ্গে সুমিত ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তাঁকে দফায় দফায় জেরা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্ফোরক তথ্য হাতে এসেছে বলেও দাবি পুলিশের। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় সুমিত জানিয়েছেন, অভিষেকের কাজকর্মের খুঁটিনাটি তাঁর জানা। কী ভাবে গোটা ব্যবস্থা চলত, সে সম্পর্কেও তিনি তদন্তকারীদের সামনে মুখ খুলবেন বলে জানিয়েছেন।

পুলিশের আরও দাবি, জেরায় সুমিত জানিয়েছেন, কালীঘাটের ওই বাড়িতেই যাবতীয় আর্থিক লেনদেন হতো। তাঁর এই বয়ানের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। মূলত, তাঁর বয়ানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখতেই এই ‘পুনর্নির্মাণ’ বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর।

বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় সুমিতকে নিয়ে গিয়ে তাঁকে একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন করেন তদন্তকারীরা। কোথায় কী ভাবে টাকা লেনদেন হতো, কারা সেখানে উপস্থিত থাকতেন এবং কী ভাবে গোটা প্রক্রিয়া চলত—সেসব জানার চেষ্টা করা হয় বলে খবর। তদন্তকারীদের আশা, এই প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু সূত্র হাতে আসতে পারে। আর সেই সূত্র ধরেই মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।


Share