Calcutta High Court

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারির আশঙ্কা, কীর্তি আজাদকে হাই কোর্টের রক্ষাকবচ! ২২ সেপ্টেম্বর সিআইডি দফতরে হাজিরার নির্দেশ

সেই আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট কীর্তিকে রক্ষাকবচ দিল। বিচারপতি কৌশিক চন্দের নির্দেশ, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে সাংসদকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।

কীর্তি আজাদকে রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:১৮

তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট কীর্তিকে রক্ষাকবচ দিল। বিচারপতি কৌশিক চন্দের নির্দেশ, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে সাংসদকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।

রাজ্য পুলিশের সিআইডি কীর্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবও করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি চন্দের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর কীর্তিকে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে। এরপরও তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে সিআইডি সাত দিনের নোটিস দিয়ে তলব করতে পারবে।

অভিযোগ, গত বছরের ২১ মে কীর্তির দুর্গাপুরের বাংলোয় এক ব্যবসায়ীকে ফোন করে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে ওই ব্যবসায়ী পৌঁছোনোর পর কীর্তির এক সহযোগী তাঁর কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে তাঁর রান্নার গ্যাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি ব্যবসায়ীর। ঘটনার অডিয়ো রেকর্ড রয়েছে বলেও তিনি জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কীর্তি-সহ তাঁর কয়েক জন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।

যদিও তৃণমূল সাংসদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই এই চক্রান্ত করা হয়েছে। ঘটনার দিন তিনি দুর্গাপুরে ছিলেন না বলেও দাবি করেন কীর্তি। নিজের দাবির সমর্থনে তিনি আদালতে বিমানযাত্রার নথিও জমা দেন।

আগাম জামিনের আবেদনে কীর্তির আরও যুক্তি, ঘটনার প্রায় ১৫ মাস পর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এত দেরিতে অভিযোগ দায়েরের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হলেও সেই টাকা আদৌ দেওয়া হয়েছিল কি না, তার কোনও প্রমাণ নেই বলেও আদালতে জানান কীর্তি। তাঁর দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনও প্রয়োজন নেই। অন্য দিকে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়েও কলকাতা হাই কোর্টে পৃথক মামলা করেছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন এই ক্রিকেটার।


Share