Indians Railway

উৎসবের মরশুমে বৃদ্ধি ট্রেনের সংখ্যা, দেশজুড়ে ১০২টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল

ভিড় সামলাতে দেশজুড়ে ১০২টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বিভিন্ন রুটে চলবে এই অতিরিক্ত ট্রেনগুলি। নিয়মিত একাধিক ট্রেনেও বাড়ানো হচ্ছে কোচের সংখ্যা।

একাধিক স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৩৫

উৎসবের মরশুমে বাড়ি ফেরার পালা। দূর্গাপুজো দীপাবলি কিংবা ছটপুজো—উৎসবে ভিড় বাড়ে রেলপথে। কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে উৎসব কাটাতে বাড়ি ফেরেন। আবার কেউ ছুটির সুযোগে বেরিয়ে পড়েন ঘুরতে। ফলে এই সময় ট্রেনের টিকিটের চাহিদা একলাফে বেড়ে যায়। টিকিটের জন্য হাহাকার তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কালোবাজারির অভিযোগও ওঠে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এ বারও একাধিক স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল।

উৎসবের মরসুমে দেশজুড়ে মোট ১০২টি অতিরিক্ত স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে বিভিন্ন রুটে এই ট্রেনগুলি পরিষেবা দেবে। এর পাশাপাশি নিয়মিত বেশ কিছু ট্রেনেও অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। এর ফলে আরও বেশি যাত্রীকে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে।

এই বিশেষ পরিষেবার আওতায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, অসম, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুট।

বাংলার যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বিহারগামী একাধিক ট্রেন রাখা হয়েছে তালিকায়। হাওড়া-রক্সৌল রুটে ০৩০৪১/০৩০৪২ এবং ০৩০৪৩/০৩০৪৪ নম্বর স্পেশাল ট্রেন চলবে। শিয়ালদহ থেকে পটনা ও সীতামঢ়ির জন্য যথাক্রমে ০৩১৩৫/০৩১৩৬ এবং ০৩১৩৩/০৩১৩৪ নম্বর স্পেশাল পরিষেবা থাকছে।

এ ছাড়াও শিয়ালদহ-গোরক্ষপুর, কলকাতা-মধুবনী এবং আসানসোল-পটনা রুটেও বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিয়ালদহ-গোরক্ষপুর রুটে ০৩১৩১/০৩১৩২, কলকাতা-মধুবনী রুটে ০৩১৮৫/০৩১৮৬ ও ০৩১৮৭/০৩১৮৮ এবং আসানসোল-পটনা রুটে ০৩৫১১/০৩৫১২ নম্বর স্পেশাল ট্রেন চলবে।

আনন্দ বিহার টার্মিনাল-জোগবানি রুটে ০৪০০৮/০৪০০৭ নম্বর ট্রেন পাঁচটি করে ট্রিপ করবে। এই ট্রেনে থাকবে মোট ২০টি কোচ। মালদহ টাউন-দিঘা এবং আসানসোল-গোরক্ষপুর রুটেও অতিরিক্ত পরিষেবা থাকছে। অন্যদিকে ভাগলপুর-কাটিহার ট্রেনটির দৈনিক পরিষেবার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতগামী যাত্রীদের জন্যও একাধিক বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওড়া-লুমডিং রুটে ০৩০০৫/০৩০০৬ এবং কলকাতা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে ০৩১২৯/০৩১৩০ নম্বর স্পেশাল ট্রেন চলবে। কলকাতা-নিউ জলপাইগুড়ি পরিষেবা শনি ও রবিবার চালানো হবে। সাঁতরাগাছি-নাহারলাগুন রুটে সেপ্টেম্বরে তিনটি অতিরিক্ত ট্রিপ এবং কানপুর সেন্ট্রাল-গুয়াহাটি রুটে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিষেবা থাকছে। ডিব্রুগড়-কলকাতা রুটেও ১৩টি অতিরিক্ত ট্রিপ দেওয়া হয়েছে। এই ট্রেনে থাকবে ২২টি কোচ।

দক্ষিণ ভারতগামী যাত্রীদের জন্যও বাড়তি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উৎসবের মরসুমে শালিমার-চার্লাপল্লি ট্রেনে অতিরিক্ত ২৪টি কোচ যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বিশাখাপত্তনম-এসএমভিটি বেঙ্গালুরু, কানপুর সেন্ট্রাল-এসএমভিটি বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-মঙ্গলুরু সেন্ট্রাল এবং সম্বলপুর-পোদানুর রুটেও অতিরিক্ত পরিষেবা চালানো হবে।

এ ছাড়া কানপুর সেন্ট্রাল-মাদুরাই এবং আমদাবাদ-মঙ্গলুরু জংশন রুটে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সাপ্তাহিক স্পেশাল ট্রেন চলবে। মুম্বই সেন্ট্রাল-কাটিহার রুটেও সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে অতিরিক্ত পরিষেবা থাকছে।

শুধু নতুন স্পেশাল ট্রেন চালানো নয়, নিয়মিত ট্রেনগুলিতেও আসন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে রেল। পোদানুর-ডক্টর এমজিআর চেন্নাই সেন্ট্রাল রুটে একটি অতিরিক্ত এসি চেয়ার কার এবং একটি চেয়ার কার যুক্ত করা হবে। সুবেদারগঞ্জ-পানভেল ট্রেনে থাকবে ২২টি এলএইচবি কোচ।

উৎসবের মরসুমে বাড়ি ফেরার টিকিটের চাহিদা প্রতিবছরই তুঙ্গে থাকে। সেই সময়ে অতিরিক্ত ট্রেন ও কোচ চালু হলে যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার, রেলের এই বাড়তি পরিষেবা অপেক্ষার তালিকায় থাকা যাত্রীদের কতটা স্বস্তি দিতে পারে।


Share