Murder Case

মেসে প্রেমিকাকে খুন, দেহ বস্তায় ভরে বাইকে পাচারের চেষ্টা, ঘটনার পুনর্নির্মাণে ধৃত অমিতকে নিয়ে গেল পুলিশ

পুরুলিয়ার মেসে প্রেমিকাকে গলা কেটে খুনের অভিযোগে ধৃত অমিতকুমার মাহাতোকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ।

অভিযুক্তকে মেসে এনে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া
  • শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৩

পুরুলিয়ার মেসে প্রেমিকাকে গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠেছিল অমিতকুমার মাহাতোর বিরুদ্ধে। খুনের পর তরুণীর দেহ বস্তায় ভরে বাইকে চাপিয়ে অন্যত্র ফেলার চেষ্টা করে যুবক। তখনই নিয়ে যাওয়ার সময় নাকা চেকিংয়ে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন। এ বার সেই ঘটনার তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। মঙ্গলবার অমিতকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর মেসে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ।

মেসের ঘরের ভিতরে ঠিক কী ভাবে তরুণীকে খুন করা হয়েছিল, খুনের পর কী ভাবে দেহ বস্তায় ভরা হয় এবং কী ভাবে তা বাইকে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতেই এই পুনর্নির্মাণ। মঙ্গলবার দুপুরে অমিতকে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া জেলা পুলিশের ডিএসপি (হেড কোয়ার্টার) নির্মল দাস, বলরামপুর থানার আইসি, টামনা থানার ওসি-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকেরা।

থানা থেকে অমিতকে মেসে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন। তবে ধৃত কোনও প্রশ্নেরই জবাব দেননি। এ দিনই দুর্গাপুর থেকে ওই ফরেনসিক বিভাগের সদস্যেরা মেসে পৌঁছোয়। মেসের ঘর থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিত এবং তাঁর প্রেমিকা পুরুলিয়ার দু’টি পৃথক মেসে থাকতেন। দু’জনেরই বাড়ি বাঘমুন্ডি থানা এলাকায়। প্রায় চার বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক ছিল। ওই তরুণী নার্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

শনিবার দুপুরে নিজের মেসে প্রেমিকাকে ডেকেছিলেন অমিত। ঘরের ভিতরে দু’জনের মধ্যে কী নিয়ে কথা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের অভিযোগ, সেখানেই তরুণীর গলা কেটে খুন করেন অমিত। পরে রক্তাক্ত দেহটি একটি বস্তার মধ্যে তিনি ভরে ফেলেন।

এর পর শনিবার মাঝরাতে বস্তাবন্দি দেহটি বাইকে চাপিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অমিত। পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বলরামপুর থানার এলাকায় নাকা চেকিং চলাকালীন পুলিশ তাঁর বাইক আটকায়। সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশি চালাতেই বস্তার ভিতর থেকে তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অমিতকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তরুণীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পুনর্নির্মাণ এবং ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে খুনের পুরো ঘটনাক্রম স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।


Share