Fake Doctor

বিহার থেকে জাল ডিগ্রি! রাজ্য থেকে পেয়েছিল চিকিৎসা করার অনুমতি, তদন্তের পরে পাঁচ ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করল কাউন্সিল

যাঁদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে তাঁদের নাম হল— শেখ ইউনুস হাসান (পাথরপ্রতিমা), হাফিজুর হালদার (মন্দিরবাজার), উত্তম মাইতি (কুলতলি), জুলফিকার মন্ডল (গাইঘাটা) এবং শেখ সইদুল হক (বর্ধমানের দেওয়ানদীঘি)।

পাঁচ ভুয়ো ডাক্তারের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে পুলিশকে চিঠি দিল কাউন্সিল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২০

রাজ‍্যের পাঁচ জন চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করল রাজ‍্য সরকার। অভিযোগ, বিহারের ভুয়ো নথি দিয়ে এ রাজ্যে তাঁরা রেজিস্ট্রেশন জোগাড় করেছিল। বিহারের কাছ থেকে জবাব এই পাঁচ জনের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল কাউন্সিল। এই পাঁচ জনের সার্টিফিকেট ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছে। তার পরেই পরেই রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

যাঁদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে তাঁদের নাম হল—  শেখ ইউনুস হাসান (পাথরপ্রতিমা), হাফিজুর হালদার (মন্দিরবাজার), উত্তম মাইতি (কুলতলি), জুলফিকার মন্ডল (গাইঘাটা) এবং শেখ সইদুল হক (বর্ধমানের দেওয়ানদীঘি)। রাজ‍্য মেডিকেল কাউন্সিল সূত্রের খবর, এদের মধ্যে কেউ সিপিএম জমানার ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে জাল সার্টিফিকেট জমা দিয়ে ডাক্তারির রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে। আবার কেউ ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০২২ সালে এমন সার্টিফিকেট দিয়ে রেজিস্ট্রেশন আদায় করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, এত বছর ধরে তাঁরা রোগীদের চিকিৎসা করেছেন। তাঁরা ডাক্তার না হয়ে চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছেন। সমস্ত নথি তাঁদের জাল ছিল। এমনকী, এই ভুয়ো চিকিৎসকেরা এলাকায় চেম্বার খুলেছিলেন। কেউ আবার নার্সিংহোমে কাজ করেছেন। কেউ আবার এককাঠি ওপরে গিয়ে নার্সিংহোমও এলাকায় খুলে ফেলেছিলেন।

এই সমস্ত যাবতীয় অভিযোগ পাওয়ার পরে রাজ‍্য মেডিকেল কাউন্সিল বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের কাছে চিঠি দিয়ে অভিযুক্তদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সোমবার সেই সংক্রান্ত জবাব এসেছে। জবাবে এই পাঁচ চিকিৎসকের সার্টিফিকেট জাল বলেই তারা জানিয়েছে। তার পরেই এই পাঁচ ভুয়ো ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে বলে জানা গিয়েছে। তারা সবাই ভুয়ো এমবিবিএসের সার্টিফিকেট জমা দিয়ে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে ডাক্তারির রেজিস্ট্রেশন পেয়েছিল।

অন‍্য দিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক ভুয়ো ডাক্তার গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ রোগী সেজে চেম্বারে আসে। ধৃতের নাম বিশ্বরূপ আচার্য। অভিযুক্ত ব্যক্তির মোট আটটি চেম্বার ছিল। নিজেকে এমবিবিএস, এফআরসিএস-এর জাল ডিগ্রি ব‍্যবহার করে নিজেকে ক‍্যানসারের চিকিৎসক বলে পরিচয় দিত। যদিও তাঁর দেওয়া নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তা জাল বলেই পুলিশ মনে করছে। রোগী প্রতি ৮০০ টাকা করে নিত বিশ্বরূপ। যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে চেম্বার খুলেছিল, সেই বাড়ির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


Share