Landslide

শমসেরগঞ্জে ফের ধস, পল্টন ব্রিজের কাছে বিপর্যস্ত রাস্তা, আটকে অ্যাম্বুল্যান্স-সহ বহু গাড়ি

দক্ষিণবঙ্গে টানা বৃষ্টির জেরে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে পল্টন ব্রিজ সংলগ্ন ডাকবাংলো–পাকুড় রোডে বড়সড় ধস নেমে বিপর্যস্ত যান চলাচল। ফরাক্কা–তিলডাঙার মাঝেও রেললাইনে ধস নামায় ব্যাহত ট্রেন চলাচল।

শমসেরগঞ্জে ধস
নিজস্ব সংবাদদাতা, শমসেরগঞ্জ
  • শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:২৯

দক্ষিণবঙ্গে চলছে টানা বৃষ্টি। এরই মধ্যে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে বড়সড় ধস নামায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ। বৃহস্পতিবার সকালে ডাকবাংলো–পাকুড় রোডের পল্টন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার বেশ কয়েকটি অংশ ধসে যায়। এর জেরে ধুলিয়ান থেকে পাকুড়গামী রাস্তায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।

ধসের কারণে অ্যাম্বুল্যান্স, মোটরবাইক-সহ ছোট-বড় একাধিক যানবাহন রাস্তায় আটকে পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় যে, পায়ে হেঁটেও ওই রাস্তা পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শমসেরগঞ্জের চাঁদপুর পল্টন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাতেও একই ভাবে রাস্তার একাংশে ধস নামায় সমস্যা আরও বেড়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শমসেরগঞ্জ থানার পুলিশ এবং ডাকবাংলো সাব-ট্র্যাফিক গার্ডের পুলিশ এলাকায় পৌঁছোয়। যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বার বার ধসের ঘটনা ঘটায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে অ্যাম্বুল্যান্সের মতো জরুরি পরিষেবার গাড়ি আটকে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত রাস্তা মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ দিকে, টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে মুর্শিদাবাদের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থায়। নিউ ফরাক্কা জংশন থেকে হাওড়ার দিকে যাওয়ার পথে ফরাক্কা ও তিলডাঙা স্টেশনের মাঝেও রেললাইনে ধস নেমেছে। ফলে হাওড়াগামী একাধিক ট্রেন আটকে পড়ে এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।

শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। বুধবার দার্জিলিংয়ে টয় ট্রেনের লোকো শেড ভেঙে পড়ে ছয় জন রেলকর্মী আহত হন।

বৃহস্পতিবারও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতিভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কোচবিহার, কালিম্পং এবং উত্তর দিনাজপুরে রয়েছে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে পারে।


Share