TMC Political Crisis

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়তে চেয়ে বেনুগোপালকে ফোন মমতার! কালীঘাটের প্রস্তাব খারিজ হাই কমান্ডের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়তে চেয়ে কেসি বেনুগোপালকে ফোন করে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, রেজিনগর কেন্দ্রে অভিষেক পন্থী প্রার্থী লড়বে। কিন্তু নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি তারা কংগ্রেসকে ছাড়তে চায়।

(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কে সি বেনুগোপাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম
  • শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৩১

রাজ‍্যে দু’টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূলের গোষ্ঠী। সূত্রের খবর, তারই মধ্যে নন্দীগ্রামের আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়তে চেয়ে কংগ্রেস নেতা কে সি বেনুগোপালকে ফোন করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে অক্সিজেন পেতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের হাত ধরতে চেয়েছিলেন কংগ্রেসের। কিন্তু সেই আশায় শেষ পর্যন্ত জল ঢেলে দিল কংগ্রেসের হাই কমান্ড।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়তে চেয়ে কেসি বেনুগোপালকে ফোন করে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, রেজিনগর কেন্দ্রে অভিষেক পন্থী প্রার্থী লড়বে। কিন্তু নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি তারা কংগ্রেসকে ছাড়তে চায়। কংগ্রেস হাই কম্যান্ডকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রস্তাব দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে সি বেনুগোপালের কাছে জানতে চান, “তৃণমূল এইরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ আসন আপনাদের ছেড়ে দিতে চাইছে। এ বিষয়ে আপনাদের প্রতিক্রিয়া কী? আপনারা কী করবেন? তিনি বলেন, আমরা (কংগ্রেস) এখনও চিন্তাভাবনায় আছি। দলের মধ্যে কথা হচ্ছে। এরপরও কোনো উত্তর আসে না।”

তারপর কে সি বেনুগোপাল এবং কংগ্রেসের তরফ থেকে রাজ্যসভার এক সাংসদকে ফোন করা হয়। বলা হয়, কংগ্রেসের নীচুতলা বা প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্ব বা কর্মীরা চাইছেন না। তাই এই মুহূর্তে কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোট যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি হওয়া সম্ভব নয়। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, অভিষেক পন্থীরা জোট চাইলে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে কংগ্রেসকে সমর্থন করুক। আগামী দিনে তা হলে জোটের রাস্তা আরও খোলা থাকবে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব বিষয়টিতে খুশি নয়। তাদের মতে, কংগ্রেস এই প্রস্তাব মানলে বিজেপির বিরুদ্ধে জোটের পক্ষে বার্তা যেত। কিন্তু সেটা হল না। অভিষেক পন্থী তৃণমূলের এক নেতা বলেন,  “আবার ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটে রাহুল গাঁধীকে কংগ্রেস যখন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে এগোবে, তখন কংগ্রেসকে তো সেই তৃণমূলের কাছেই তাদের আসতে হবে। তখন কী হবে?”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসের এই জোট প্রস্তাব খারিজের সুদূর প্রসারী প্রভাব রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারবার কংগ্রেসের হাত ছেড়ে বেরিয়ে আসা ভালোভাবে কংগ্রেস হাই কমান্ড নিচ্ছে না। ভরসাও করতে পারছে না। তার ওপরে রাজ্যে তৃণমূল দু’ভাগে ভাগ হয়েছে। তবে আগামী দিনে কংগ্রেস এই রাজ‍্যে একাই লড়াই করার চেষ্টা করতে পারে বলেও তাঁরা মনে করছেন।


Share    

TMC