Railway

ফরাক্কায় বার বার ধস, শনিবারও বাতিল উত্তরবঙ্গের একাধিক ট্রেন! দার্জিলিং মেল-কাঞ্চনকন্যা-পদাতিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনও রয়েছে তালিকায়

এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতা ও হাওড়ামুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ অব্যাহত। শনিবারও একাধিক ট্রেন বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

মেরামতির কাজ চলছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরাক্কা
  • শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৩

উত্তরবঙ্গ থেকে হাওড়া ও কলকাতার দিকে আসা একাধিক ট্রেন শনিবারও বাতিল করেছে রেল। মুর্শিদাবাদের নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইনে ধস নামার জেরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রেলকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চালাচ্ছেন। তবে কবে ওই লাইন দিয়ে ফের ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেলের আধিকারিকেরাও এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারছেন না। সূত্রের খবর, একই জায়গায় বার বার ধস নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ওই এলাকার মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় রেললাইনের স্থায়িত্ব নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ধসপ্রবণ এলাকায় বালির বস্তা ও স্টোনচিপ্‌স ফেলে মাটি শক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দ্রুত লাইন মেরামতির কাজও চালানো হচ্ছে। কিন্তু বার বার ধস নামায় কাজের অগ্রগতিতেও সমস্যা হচ্ছে বলে খবর। ফলে কবে থেকে ওই পথে স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা চালু করা যাবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতা ও হাওড়ামুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ অব্যাহত। শনিবারও একাধিক ট্রেন বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

শনিবার দক্ষিণমুখী পদাতিক, কাঞ্চনকন্যা, দার্জিলিং মেলের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিলের তালিকায় আছে গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, বামনহাট-শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, হলদিবাড়ি-শিয়ালদহ দার্জিলিং মেল, বালুরঘাট-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ পদাতিক এক্সপ্রেস, জলপাইগুড়ি রোড-শিয়ালদহ হমসফর এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-কলকাতা এক্সপ্রেস, যোগবনী-কলকাতা এক্সপ্রেস, কাটিহার-হাওড়া এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ তিস্তাতোর্সা এক্সপ্রেস, মালদহ টাউন-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, নাহারলাগুন-সাঁতরাগাছি স্পেশাল ট্রেন, সহর্ষ-শিয়ালদহ হাটেবাজারে এক্সপ্রেস।

শনিবার বাতিল থাকছে মালদহ-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, মালদহ-সাহিবগঞ্জ মেমু, সাহিবগঞ্জ-আজ়িমগঞ্জ মেমু, ভাগলপুর-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, সাহিবগঞ্জ-মালদহ মেমু, আজিমগঞ্জ-সাহিবগঞ্জ মেমু, আজিমগঞ্জ-বরহারওয়া প্যাসেঞ্জার, আজিমগঞ্জ-ভাগলপুর প্যাসেঞ্জার ট্রেন। মালদহ থেকে নয়াদিল্লিগামী এক্সপ্রেস ট্রেন কাটিহার, মানসি, মুঙ্গের হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। ভাতিন্ডা-বালুরঘাট ফরাক্কা এক্সপ্রেস এবং উধনা-মালদহ টাউন স্পেশাল ট্রেনটিও ওই পথে ঘোরানো হবে।

পাশাপাশি, বেশকিছু ট্রেন নিউ ফরাক্কা, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া দিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। সেই তালিকায় আছে এনজেপি থেকে হাওড়াগামী শতাব্দী এক্সপ্রেস, শুক্রবারের গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, হাওড়া-এনজেপি বন্দেভারত এক্সপ্রেস, হাওড়া-রাধিকাপুর কুলিক এক্সপ্রেস এবং কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। ফরাক্কা, আজিমগঞ্জ, নলহাটি দিয়ে ঘোরানো হবে বালুরঘাট-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, আগরতলা-চরলাপল্লি এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-শিলচর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, বেঙ্গালুরু-রাধিকাপুর এক্সপ্রেস, তম্বরম-নিউ তিনসুকিয়া এক্সপ্রেস।

রেল সূত্রে খবর, নতুন করে পরিস্থিতির অবনতি না হলে শনিবার আপ লাইনে কোনও ট্রেন বাতিল করার পরিকল্পনা নেই। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ব্যাপারে আশাবাদী রেলকর্মীরা। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ ট্রেনকে নিউ ফরাক্কার কাছ থেকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ফরাক্কায় মূলত রেললাইনের ভিত শক্ত করার কাজ চলছে। টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় একই জায়গায় বার বার ধস নামছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বালির বস্তা ও স্টোনচিপ্‌স দিয়ে মাটি শক্ত করার চেষ্টা করছেন রেলের ইঞ্জিনিয়ারেরা। পাশাপাশি দ্রুত রেললাইন মেরামতির কাজও চলছে। তবে রেলকর্তাদের দাবি, মাটি শক্ত করার এই কাজ সম্পূর্ণ করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা টানা বৃষ্টিহীন আবহাওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে ফের বৃষ্টি শুরু হলে মাটি আবার নরম হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত করা মেরামতির কাজও ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রেললাইন মেরামতির কাজে ফরাক্কায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। যে জায়গায় ধস নেমেছে, তার পাশেই একটি জলাশয় রয়েছে। সেখান থেকে লাগাতার জল চুঁইয়ে মাটির নীচে ঢুকে পড়ছে। ফলে রেললাইনের নীচের মাটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা রেল আধিকারিকদের। লাইনের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটিও এক দিকে হেলে গিয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পরেও ধাপে ধাপে ট্রেন চালিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিক ভাবে ইঞ্জিন চালিয়ে ট্রায়াল রান করা হবে। তাতে কোনও সমস্যা না হলে দুই কামরার ইনস্পেকশন ভ্যান চালানো হবে। সেটিও নিরাপদ প্রমাণিত হলে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে এলবিএইচ কামরা যুক্ত ট্রেন চালিয়ে পরীক্ষা করা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে তার পর যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

পূর্বরেল শনিবার সকালে জানিয়েছে, লাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সিগন্যালিং মেরামতির কাজ চলছে। তবে প্রত্যেক খুঁটিনাটি গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ, সুষ্ঠু ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে রেল আধিকারিকেরা পুরোদমে চেষ্টা চালাচ্ছেন। শেষ ধাপের কাজ চলছে।


Share