Bangladeshi Arrested

মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে জেরক্স করতে গিয়েছিল পুলিশকর্মী, সুযোগ বুঝে চম্পট দিল দুই বাংলাদেশি আসামি, মুর্শিদাবাদের ঘটনায় শোরগোল

মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেল দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। জঙ্গিপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সুযোগ বুঝে গাড়ি থেকে পালায় আনারুল শেখ ও মহম্মদ রুবেল শেখ। ধাওয়া করে আনারুলকে গ্রেফতার করা হলেও রুবেল এখনও অধরা।

খড়খড়ি নদীর তীরে পলাতককে খুঁজছে পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১৩

পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেল গ্রেফতার হওয়া দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। ধাওয়া করে এক জনকে পাকড়াও করা হলে অপর জন এখনও অধরা। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশের হেফাজত থেকে কী ভাবে আসামি পালিয়ে গেল তা নিয়ে জেলা পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার কৃষ্ণশাইল মোড় থেকে পাঁচ জনকে আটক করা হয়। সেখানে দু’জনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা পরে দু’জন বাংলাদেশি পুলিশ জানতে পারে। গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম মহম্মদ রুবেল শেখ  এবং আনারুল শেখ। ধৃতেরা বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। এই দেশে থাকার কোনও বৈধ নথি ধৃতদের কাছ থেকে মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এ দিন দুপুর ১২টা নাগাদ রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ আনারুল এবং মহম্মদ রুবেলকে জঙ্গিপুর আদালতে আনা হচ্ছিল। সেখানে আসার পথে গাড়ি দাঁড় করিয়ে পুলিশকর্মী কিছু কাগজপত্র জেরক্স করেতে নামেন। সেই সময় সুযোগ বুঝে গাড়ি থেকে চম্পট দেয় গ্রেফতার হওয়া দু’জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। 

খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ধাওয়া করে এলাকারই একটি গলি থেকে আনারুলরে ধরা হয়। অপর জন রুবেল খড়খড়ি নদী পেরিয়ে গোপালনগরের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে বলে দাবি করা হয়। ছ’ঘন্টার বেশি সময় কেটে গেলেও মহম্মদ রুবেলের খোঁজ মেলেনি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সেখানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। 

এক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি, তিনি এক আসামিকে পালিয়ে যেতে দেখেছিলেন। এর পরেই এক পুলিশকর্মী এসে তাঁকে সাইকেলে চাপিয়ে সামনে ছেড়ে দিতে বলেন। তিনি তা-ও করেন। পুলিশকর্মীকে ছেড়ে দিয়ে আসার সময় ওই অভিযুক্তকে দৌড়তে দেখেন। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে অনেকেই ছিল। আনারুলকে ধরে ফেলি। সেখান থেকেও পালানোর চেষ্টা করে। আমায় ধাক্কা মেরে ড্রেনে ফেলে দিয়েছে। আমার হাতে আঘাত লেগেছে।”

কীভাবে পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন আসামি পালিয়ে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা পুলিশের তরফে কেনও মন্তব্য করা হয়নি। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা করা হয়েছে তা নিয়েও স্পষ্ট জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া জানতে জঙ্গিপুরের এসডিপিও-কে ফোন করা হলে তাঁর দেহরক্ষী ফোন তোলেন। বলা হয়, “সাহেব বৈঠকে আছেন। পরে ফোন করুন।”


Share