Ward Boy Allegedly Molested A Woman

ওয়ার্ডের মধ্যেই আলো নিভিয়ে আদিবাসী রোগিণীর মেয়েকে শ্লীলতাহানি, বাধা দিলে মারধর! গ্রেফতার বর্ধমান মেডিকেলের কর্মী

এ দিন ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে নিতে চায় পুলিশ। শেষমেশ অভিযুক্তের দু’দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন বিচারক।

হাসপাতালের মধ‍্যেই মহিলাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩৩

রোগিণীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর বিবাহিত মেয়ে। অভিযোগ, সেই সময় ওয়ার্ডের আলো নিভিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে শ্লীলতাহানির করা হয়েছে। এমনকি শ্লীলতাহানিতে বাধা দিলে মহিলাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হাসপাতাল সুত্রের খবর, এক আদিবাসী মহিলার মা কয়েক দিন ধরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই হাসপাতালের ‘নিউ বিল্ডিং’-এর ফিমেল চেস্ট ওয়ার্ডে তাঁর চিকিৎসা চলছে। গত শনিবার থেকে মায়ের কাছে মেয়ে থাকছিলেন। অভিযোগ, তিনি মাকে নিয়ে হাসপাতালের ওই বিভাগে যাওয়ার পর থেকেই নানা ভাবে অশ্লীল ইঙ্গিত করছিলেন সেখানে কর্মরত এক ওয়ার্ডবয়। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ মায়ের সঙ্গে ছিলেন তিনি। সেই সময় সেখানে যান অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয়। ঘরে ঢুকেই তিনি আলো নিবিয়ে দেন বলে অভিযোগ। তার পর পিছন থেকে অভিযোগকারিণীকে জড়িয়ে ধরেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। বিবস্ত্র অবস্থায় চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন ওই মহিলা। তখন তাঁকে কিল-চড়-ঘুষি মারেন অভিযুক্ত। এর পরেই নিজেকে কোনও রকমে ছাড়িয়ে সাহায্যের জন্য আরও জোরে চিৎকার করেন মহিলা। এর পর হাসপাতালের কিছু লোকজন সেখানে পৌঁছোন। তাঁরা আলো জ্বালাতেই অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালায়।

জানা গিয়েছে, ধৃতের বাড়ি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ কালীতলা এলাকায়। বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ২১ বছর ধরে ওয়ার্ডবয়ের কাজ করছে। এর পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন ‘নির্যাতিতা।’ অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১২৬(২), ১১৫(২), ৭৪, ৭৫(২), ৭৬ এবং ৭৯ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। 

তার পর তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে গোটা ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর করেন। ওই ওয়ার্ডের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়। সোমবার ভোররাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে বর্ধমান মহিলা থানার পুলিশ।

এ দিন ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে নিতে চায় পুলিশ। শেষমেশ অভিযুক্তের দু’দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন বিচারক।


Share