Abhishek Banerjee

বিধানসভার সাক্ষর বিতর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ে ভবানী ভবনে তলব করল সিআইডি, বাড়িতে গিয়ে নোটিস ধরিয়ে এল রাজ‍্য পুলিশ

তদন্তকারীরা কালীঘাট রোডের বাড়িতে যান। সেখানেই ছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। তাঁকে ডাকাডাকি করেন। সেখানে কর্তব্যরত কলকাতা পুলিশের এক কর্মী বেরিয়ে এসে সিআইডির আধিকারিকদের জানান, অভিষেক ঘরে আছেন। চিঠিটা তাঁর আপ্তসহায়কের কাছে দিয়ে যাওয়ার জন‍্য প্রস্তাব দেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৪:০৯

বিধানসভায় সাক্ষর বিতর্কের তদন্তে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করল সিআইডি। আগামী সোমবার বেলা ১২টায় ভবানী ভবনে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। শনিবার সেই নোটিস তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তদন্তকারীরা ধরিয়ে দিয়ে এসেছেন।

এ দিন দুপুরে সিআইডির একটি দল ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে যান। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় ছিলেন না। সুরজিৎ দে নামে বাড়ির এক পরিচারক বেরিয়ে এসে সিআইডির আধিকারিকদের জানান তিনি বাড়িতে নেই। নির্বাচনের পর থেকে এই বাড়িতে আর আসেননি। 

এর পরেই তদন্তকারীরা কালীঘাট রোডের বাড়িতে যান। সেখানেই ছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। তাঁকে ডাকাডাকি করেন। সেখানে কর্তব্যরত কলকাতা পুলিশের এক কর্মী বেরিয়ে এসে সিআইডির আধিকারিকদের জানান, অভিষেক ঘরে আছেন। চিঠিটা তাঁর আপ্তসহায়কের কাছে দিয়ে যাওয়ার জন‍্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু সিআইডির আধিকারিক ওই পুলিশকর্মীকে জানান, এই চিঠি তাঁর আপ্তসহায়কের কাছে তাঁরা দেবেন না। তৃণমূল সাংসদের হাতেই দেবেন। সেই কথার উত্তরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী জানান, তাহলে একটু অপেক্ষা করতে হবে।

তার কিছু ক্ষণ পরেই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নেমে আসেন। সিআইডির আধিকারিকে আসতে বলেন। সিআইডির আধিকারিক ভিতরে গিয়ে কিছু কথা বলেন। তারপরে একটি নোটিস অভিষেকের হাতে ধরিয়ে চলে যান। পুলিশ সূত্রের খবর, বিধানসভার চিঠিতে সাক্ষর বিতর্কের তদন্তের এই চিঠি তাঁকে দেওয়া হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী সোমবার দুপুর ১২টায় ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে। 

এর পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রথমত ওদের ভুল তথ্য ছিল। বিগত সাত বছর ধরে আমি ওখানে (১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে) থাকি না। ওরা তা জানে না। তাঁরা অনেক ক্ষণ দাঁড়িয়ে আমার জন‍্য অপেক্ষা করছিল। নোটিস নিয়ে আমি তাঁদের ছেড়ে দিয়েছি।” অভিষেক আরও জানান, “ আমি তাঁদের নোটিস নিয়েছি। কিন্তু তা এখনও পড়িনি। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আইনি সহায়তা নেব। তাঁরা যে পরামর্শ দেবেন তাই করব।” 

বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পরে দলেরই একাংশ কারণ হিসেবে অভিষেকের মনোভাবকে দায়ী করেছে। এ দিনও তাঁর মনোভাবে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি তা-ও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, “ইডি-সিবিআই আমাকে অনেক বার ডেকে পাঠিয়েছিল। ততবার আমি গিয়েছি। তাহলে সিআইডি কী? রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করার জন্য পুলিশের অপব্যবহার করছেন। রাষ্ট্রশক্তির কাছে মাথানত আমি করিনি। বিজেপির যা করার করুক। আগে ইডি, সিবিআই ছিল এখন কলকাতা এবং রাজ‍্য পুলিশ যুক্ত হয়েছে। আমায় যদি ভুয়ো মামলায় যদি গ্রেফতার করে নিয়ে যাক। কাউকে নোটিস দেওয়ার হলে এখানে আসতে হবে। একটা কপি নিয়েছি। সাক্ষর করে এক কপি দিয়েছি।”

উল্লেখ‍্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি চিঠি নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। সেই চিঠিতে থাকা কয়েক জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, কিছু স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এই সংক্রান্ত প্রথম চিঠি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিধানসভা পাঠিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই চিঠি বিধানসভার স্পিকার ফিরিয়ে দেন। তারপর অন্য চিঠি যাওয়ার পরই সাক্ষর নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এর পরেই বিধানসভার স্পিকার হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে সেই তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, সংশ্লিষ্ট চিঠিতে থাকা স্বাক্ষরগুলি আদৌ প্রকৃত কি না, তা যাচাই করা। সেই কারণেই এই মামলার তদন্তে সিআইডি একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন চন্দ্রনাথ সিংহ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুনাল ঘোষ। একই মামলার তদন্তে শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গেল সিআইডি।


Share