Body Recovered

ইদের নিমন্ত্রণে শ্বশুরবাড়ি, দু’দিন পর মাঠে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ পরিবারের

পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদিও শ্বশুরবাড়ির দাবি তিনি মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হয়েছেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৩:৪৭

মুর্শিদাবাদের এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার খামারমাটি পুলপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম আনোয়ার শেখ (৪০)। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে খুন করা হয়েছে। তারপর গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও শ্বশুরবাড়ির দাবি, মানসিক অবসাদের জেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইদ উপলক্ষে শশুরবাড়ি থেকে আনোয়ারকে ডাকা হয়েছিল। তাই বুধবার সকালে ডোমকলের বাড়ি থেকে তিনি হরিহরপাড়ার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। শুক্রবার সকালে ঘটে বিপত্তি। শ্বশুরবাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি মাঠে গাছের ডালে গামছার ফাঁসে ঝুলন্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে হরিহরপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে ডোমকলের শ্রীপতিপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারের সঙ্গে হরিহরপাড়ার মজিলা খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি দু’বছরের সন্তানও রয়েছে। মজিলার পরিবারের দাবি, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। নিয়মিত কোনও কাজ করতেন না। সেই কারণেই তাঁর প্রথম স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। পরে মজিলাকে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পরেও কাজকর্ম না করায় পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে। প্রায় ছ’মাস আগে মজিলা বাবার বাড়িতে চলে আসেন। আর স্বামীর কাছে ফেরেননি।

শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দাবি, মানসিক অবসাদের কারণেই আনোয়ার আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে মৃতের পরিবার এই দাবি মানতে নারাজ। আনোয়ারের কাকা অজি শেখের অভিযোগ, “ইদের কথা বলে আমার ভাইপোকে ডেকে আনা হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে দেহ উদ্ধার হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে ওকে হত্যা করে পরে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত থাকতে পারে।”

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল। ইদ উপলক্ষে আনোয়ারকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। উৎসব শেষ হওয়ার পরই এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


Share