Sand Crisis Stalls

বালি-পাথরের সঙ্কটে থমকে সরকারি প্রকল্পের কাজ, উদ্বেগে ঠিকাদার সংস্থাগুলি

তাঁদের দাবি, কাজ চালু রাখতে অতিরিক্ত খরচ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে বালি ও পাথর আনা হয়েছিল। বর্তমানে সেই ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৬:৫৪

হঠাৎ করেই জলপাইগুড়িতে বালি ও পাথরের তীব্র সঙ্কট। এর ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের কাজ কার্যত থমকে গিয়েছে। অভিযোগ, ভোটের সময় বিভিন্ন নদী থেকে গোপনে বালি-পাথর তোলা হলেও নির্বাচন মিটতেই সেই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে গত প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের জন্য নির্মীয়মাণ পাওয়ার স্টেশনের কাজ।

জেলা প্রশাসন আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী না পাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন ঠিকাদাররা। তাঁদের দাবি, কাজ চালু রাখতে অতিরিক্ত খরচ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে বালি ও পাথর আনা হয়েছিল। বর্তমানে সেই ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। একই কারণে আমবাড়ি-ফালাকাটায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের পাওয়ার হাউস নির্মাণের কাজও আটকে রয়েছে বলে ঠিকাদারি সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নদী থেকে বৈধভাবে বালি ও পাথর উত্তোলনের দাবিতে ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সিমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মনোজ সাহা জানান, ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর গত বছরের জুলাই মাসে কাজ শুরু হয়েছিল। বর্ষাকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পটি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু বালি ও পাথরের অভাবে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে রয়েছে।

তিনি আরোও জানান, বর্তমানে অন্য উৎস থেকে সার্কিট বেঞ্চে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে নতুন পাওয়ার স্টেশন চালু হলে আদালত ভবনের পাশাপাশি স্টাফ কোয়ার্টার, বিচারপতিদের বাংলো এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত পরিকাঠামোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সেই কারণেই জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর সঙ্কটে সেই সময়সীমা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদী থেকে বালি-পাথর তোলার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মে মাসেই কেন এই সঙ্কট দেখা দিল? এ বিষয়ে জলপাইগুড়ি ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক রাজু ঘোষ জানান, এতদিন ডুয়ার্সের বিভিন্ন নদী চেল, ঘিস, জলঢাকা-সহ একাধিক জায়গা থেকে বৈধ পারমিটের মাধ্যমে বালি ও পাথর তোলা হত। পাশাপাশি কিছু এলাকায় অবৈধ উত্তোলনও চলত। ফলে সরবরাহে কোনও সমস্যা দেখা দিত না। সম্প্রতি সেই সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ করে দেওয়াতেই সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের দফতরে যোগাযোগ করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বৈধ লিজ ছাড়া নদীর বেড থেকে বালি বা পাথর তোলা যাবে না। ফলে আগামী দিনে এই সঙ্কট কত দ্রুত কাটবে, তা নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।


Share