Katwa Hospital

গর্ভবতী নন, তবুও ১০ মাস ধরে চলেছে চিকিৎসা! কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে বিস্ময়কর ঘটনা

অভিযুক্ত চিকিৎসক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি কখনও ফুলবানুকে গর্ভবতী বলে জানাননি। তিনি শুধুমাত্র ইউএসজি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৪:৪৪

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে এক মহিলার চিকিৎসা চলছিল। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জানা যায়, ওই মহিলা আদৌ গর্ভবতী নন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

জানা গিয়েছে, কেতুগ্রাম-১ ব্লকের হাট মুরগ্রামের বাসিন্দা ফুলবানু বিবিকে। তাঁকে শুক্রবার সকালে সন্তান প্রসবের জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের দাবি, তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয়েছিল। ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু লেবার রুমে পরীক্ষার সময় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় জানান, ফুলবানুর গর্ভে কোনও সন্তান নেই।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে পুনরায় আলট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি) করানো হয়। রিপোর্টেও দেখা যায়, তিনি গর্ভবতী নন। চিকিৎসকদের মতে, ফুলবানু ‘সিউডোসাইসিস’ নামে একটি বিরল মানসিক ও শারীরিক অবস্থার শিকার। এই সমস্যায় গর্ভধারণ না করলেও শরীরে গর্ভাবস্থার মতো নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেও নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা বলে বিশ্বাস করতে পারেন।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন ধরে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কেন বিষয়টি শনাক্ত করতে পারলেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুলবানুর নামে ‘মা ও শিশু সুরক্ষা কার্ড’ও তৈরি করা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, তাঁকে অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য নির্ধারিত ওষুধ এবং ইনজেকশনও দেওয়া হয়েছে।

ফুলবানুর বাবা ফুলচাঁদ শেখ অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা তাঁদের জানিয়েছিলেন গর্ভস্থ সন্তানের জন্ডিস হয়েছে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসাও চলছিল। যদিও অভিযুক্ত চিকিৎসক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি কখনও ফুলবানুকে গর্ভবতী বলে জানাননি। তাঁর বক্তব্য, তিনি শুধুমাত্র ইউএসজি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

প্রায় ১০ মাস ধরে নিজেকে মা হতে চলেছেন বলে বিশ্বাস করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে ফুলবানু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। হাসপাতালেতেই তিনি প্রচন্ড কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতাল সুপার বিপ্লব মণ্ডল জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ব্লক স্বাস্থ্যকর্মীকে শোকজ করা হবে। তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Share