Awas Yojona

৬০ হাজারের ঘর, ২০ হাজারের কাটমানি! মালদহে উপভোক্তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আদায়ের অভিযোগ তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে

অভিযোগ, সরকারি পাকা ঘর নির্মাণের জন্য প্রথম কিস্তিতে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকা করে জমা পড়েছিল। সেই সময় এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য আইজুল শেখ প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে কাটমানি নেন।

অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন উপভোক্তারা
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৮:৪২

নতুন করে কাটমানি-কাণ্ডের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল মালদহে। সরকারি আবাসন প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় ১০০ জন উপভোক্তার কাছ থেকে মোট ২০ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মালদহ জেলার ইংরেজবাজার ব্লকের যদুপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মহারাজপুর এলাকার।

অভিযোগ, সরকারি পাকা ঘর নির্মাণের জন্য প্রথম কিস্তিতে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকা করে জমা পড়েছিল। সেই সময় এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য আইজুল শেখ প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে কাটমানি নেন। উপভোক্তাদের দাবি, টাকা না দিলে পরবর্তী কিস্তির সরকারি অর্থ মিলবে না বলে তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছিল। সেই কারণেই প্রায় ১০০ জন উপভোক্তা বাধ্য হয়ে টাকা দেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কাটমানি দেওয়ার পরেও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আর তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। ফলে হাতে থাকা মাত্র ৪০ হাজার টাকা নিয়ে কীভাবে বাড়ি নির্মাণের কাজ এগোবে, তা নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েন তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তের প্রভাব ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাননি বলেও দাবি স্থানীয়দের। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

শুক্রবার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে ইংরেজবাজার ব্লক অফিসে বিক্ষোভ দেখান মহারাজপুর এলাকার বাসিন্দারা। অসীমা মণ্ডল, মঞ্জু সিংহ, দিলদার শেখ-সহ বহু উপভোক্তা বিক্ষোভের পর ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রে আইজুল শেখের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। বিক্ষোভের পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাজেশ পাল বলেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কেউ যদি কাটমানি নেওয়ার মতো বেআইনি কাজ করে থাকেন, তবে আইন ও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি জানান, ব্লক প্রশাসন ইতিমধ্যেই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।

ইংরেজবাজার ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


Share