Chandannagar Municipal Corporation

তৃণমূলের পুর-সঙ্কট অব্যাহত, একদিনে ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ, ভাঙল চন্দননগরের পুরবোর্ড

এই বিষয়ে চন্দননগরের বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ জানিয়েছেন, “তৃণমূলের যারা ভিতরে থেকেছেন তাঁদের প্রত্যেকের মধ্যে কোথাও না কোথায় ভাবনা এসেছে, যে এই দলটা আর করা যায় না। কারণ তাঁরা মানুষ সঙ্গে নেই। আর এটাই তাঁরা ভেবে নিয়েছেন। সেই জন্য হয়তো তাঁরা পদত্যাগ করছেন।”

চন্দননগর পুরসভার তৃণমূলের বোর্ড ভেঙে গেল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দননগর
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১২:১৬

কলকাতার পরে এ বার চন্দননগর। নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে তৃণমূলে পুর-সঙ্কট অব্যাহত। একই দিনে চন্দননগর পুরসভার ৩০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। আগেই ওই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মুন্না আগরওয়াল পদত্যাগ করেছেন। একসাথে এতগুলি কাউন্সিলর পদত্যাগ করার ফলে চন্দননগর পুরসভার বোর্ড ভেঙে গেল।

জানা গিয়েছে, পদত্যাগ করা কাউন্সিলরদের মধ্যে মেয়র রাম চক্রবর্তী রয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান মুন্না আগরওয়াল বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার সকালে পাঁচজন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। রাতের দিকে আরও ২৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। তৃণমূল সূত্রের খবর, মেয়র রাম চক্রবর্তী-সহ তৃণমূলের কাউন্সিলরেরা পদত্যাগপত্র চেয়ারপার্সন স্নিগ্ধা রায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ইমেল করে প্রত‍্যেকে পদত‍্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আইন মেনে তিনি পুরসভার কমিশনারের কাছে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

চন্দননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। তার মধ্যে দু’জন সিপিএমের কাউন্সিলর রয়েছে। ৩১ জন তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন। বৃহস্পতিবার মুন্না আগরওয়াল পদত্যাগ করেছেন। শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেয়র রাম চক্রবর্তী-সহ সব মিলিয়ে ৩১ জন তৃণমূলের কাউন্সিলরই পদত্যাগ করে দিলেন। ফলে রাজ্যে প্রথম তৃণমূলের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বোর্ড ভাঙল।

চন্দননগর বিধানসভায় নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তৃনমূল। প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সেই পরাজয়ের পরে টালমাটাল অবস্থা হয়েছে পুরসভার। সূত্রের খবর, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরে ক্ষোভের কারণেই এই সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছেন বলে। 

পদত্যাগ করে চন্দননগরের বিদায়ী মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের পরাজয় হয়েছে। মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়েছি। তার পরেও ভেবেছিলাম, পুরনিগমের পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারব। কিন্তু পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, পুরসভার খরচের অডিট হবে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও থাকল না। সামান্য চায়ের খরচ, গাড়ির তেলের খরচ, সেগুলিও আমরা পাচ্ছিলাম না।” 

বিদায়ী মেয়র রাম চক্রবর্তীর কথায়, নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরী হবে। তা মনে করেই নাকি কয়েক দিন তাঁরা অপেক্ষার করে ছিলেন। তার পরেই তাঁরা এই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এত দিন রাজনৈতিক জল মাপার পরে তিনি বলেন, “যদি কোনও কাজই না করতে পারি তাহলে চেয়ার আগলে বসে থাকার মানে হয় না। নাগরিকদের কাছে আমাদের জবাব দিতে হবে। তাই এই সিদ্ধান্ত। আমাদের পদত্যাগ করার জন্য কেউ জোর করেনি। নতুন সরকার তৈরি হয়েছে। আশা করি তারা মানুষের পরিষেবার দিকে নজর দেবেন।চন্দননগর খুব সুন্দর একটি শহর। সবাই মিলে এই শহরকে রক্ষা করতে হবে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে।” যদিও সিপিএম দুই কাউন্সিলর পদত্যাগ করেননি।

এই বিষয়ে চন্দননগরের বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ জানিয়েছেন, “তৃণমূলের যারা ভিতরে থেকেছেন তাঁদের প্রত্যেকের মধ্যে কোথাও না কোথায় ভাবনা এসেছে, যে এই দলটা আর করা যায় না। কারণ তাঁরা মানুষ সঙ্গে নেই। আর এটাই তাঁরা ভেবে নিয়েছেন। সেই জন্য হয়তো তাঁরা পদত্যাগ করছেন।”


Share