Middle East Conflict

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব দেশে, ৩০ দিনের এলপিজি মজুতের নির্দেশ কেন্দ্রের, জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ

শুক্রবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০১:৫৯

পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতার প্রভাব যাতে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে অন্তত ৩০ দিনের চাহিদা পূরণের মতো এলপিজি মজুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে ন্যূনতম এক মাসের এলপিজি মজুত রাখার পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে এবং সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

ভারতের এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। পাশাপাশি দেশের মোট খনিজ তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬৫ শতাংশও ওই অঞ্চল থেকেই আমদানি করা হয়। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না কেন্দ্র।

সরকারি সূত্রের দাবি, বর্তমানে দেশে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশীয় শোধনাগারগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাচ্ছে এবং দৈনিক এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৫২ হাজার টনে পৌঁছেছে। এখনও পর্যন্ত দেশের কোনও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপে ঘাটতির খবর মেলেনি।

তবে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পেট্রোল পাম্পগুলিতে জ্বালানির অস্বাভাবিক চাহিদা। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিকাজের মরশুমে বাড়তি ব্যবহার এবং বেসরকারি পাম্পের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাম্পে তুলনামূলক কম দামের কারণে গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে। দেশের ১৫০টিরও বেশি জেলায় পেট্রোল বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, আর ১৪টি জেলায় সেই বৃদ্ধি দ্বিগুণ হয়েছে। বিপরীতে, বেসরকারি সংস্থাগুলির ডিজেল বিক্রি প্রায় ৩৮ শতাংশ কমেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৫ মে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপিছু প্রায় ৭.৫০ টাকা বাড়ালেও বেসরকারি সংস্থাগুলি তার চেয়েও বেশি দাম বৃদ্ধি করেছে। ফলে দামের ব্যবধানের কারণে সাধারণ মানুষের ঝোঁক বাড়ছে সরকারি পাম্পগুলির দিকে।

এই পরিস্থিতিতে মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে কেন্দ্র রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশেষ নজরদারি দল গঠনের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, আতঙ্কের বশে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা বা ‘প্যানিক বাইং’ থেকে বিরত থাকার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কবে থামবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই সম্ভাব্য জ্বালানি সঙ্কট এড়াতে কেন্দ্র আগাম প্রস্তুতির পথে হাঁটছে। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি সরবরাহকে কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।


Share