Abhishek Banerjee

‘অভিষেককে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে,’ অভিযোগ তৃণমূলের, সাংসদের নিরাপত্তা বাড়াল রাজ‍্য পুলিশ, উঠছে প্রশ্ন

কুনালের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ধরে হামলাকারীদের হাতে অভিষেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে কর্মসূচি জানানো হয়েছিল। কেন সেখানে পুলিশ ছিল না? গোটা ঘটনাটি পরিকল্পিত। যারা যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

সোনারপুরে আক্রান্ত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১০:৫০

সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও রকমে প্রাণে বাঁচেন তিনি। তৃণমূলের অভিযোগ, সাংসদকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, কেন পুলিশ সেখানে ছিল না। আগে থেকে জানানোর পরেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। বিজেপির সাফাই, তাঁরা আছে বলে তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদদেরা অক্ষত রয়েছেন। এই ঘটনার পরে আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এ দিন বিকেলে সোনারপুরে এক মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বলেই জানাচ্ছে তৃণমূল। পুলিশকে তা জানানো ছিল। কিন্তু অভিষেক কামালগাজি ঢুকতেই তাঁকে দেখে বিক্ষোভ শুরু হয়। মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাইকের পিছনে চেপে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ওই কর্মীর বাড়ির অনেকটা আগেই বিক্ষোভের জেরে তাঁকে আটকে যেতে হয়।

এর পরেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া শুরু হয়। জুতো, এমনকী পাথর ছোঁড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হেলমেট পড়ে ওই কর্মীর বাড়ির দিকে হেঁটে রওনা দেওয়ার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক জন অভিষেকের ওপর চড়াও হয়। চড়-থাপ্পড় মারা শুরু হয়। কোনও মতে নিরাপত্তারক্ষীরা বের করে নিয়ে আসে।

তৃণমূলের অভিযোগ, দলের সাধারণ সম্পাদককে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষের কথায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে যাবেন তা আগে থেকেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল। বাইরে থেকে লোক এনে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার খবর আগে থেকে থাকলে এ ভাবে হামলা চালানো হবে। তাঁকে কার্যত খুন করা চেষ্টা করা হয়েছে।”

এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভের মুখে পড়তে দেখা গিয়েছে। ছিল না পুলিশের কোনও নজরদারি। না দেখা গিয়েছে র‍্যাফ। গুটিকয়েক তৃণমূল কর্মী এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া কার্যত কেউ ছিল না বলেই দাবি করা হচ্ছে। কুনালের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ধরে হামলাকারীদের হাতে অভিষেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে কর্মসূচি জানানো হয়েছিল। কেন সেখানে পুলিশ ছিল না? গোটা ঘটনাটি পরিকল্পিত। যারা যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।” কার নির্দেশে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি তা-ও খতিয়ে দেখা হোক বলেও দাবি করেছে তৃণমূল।

মৃত তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে দেখা করার পরে তাঁকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পৌঁছোন তৃণমূলনত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সেখানে অভিষেকের কোনও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের তরফে চাপ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আসছে। এর পরেই বিরোধী দলের সাধারণ সম্পাদককে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, তাঁর কাঁধে চোট লেগেছে। বুকেও আঘাত লেগেছে। আপাতত আইটিইউতে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে হাসপাতালে ভর্তি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিষেকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর চোট গুরুতর নয়। তাই ভর্তি নেওয়া হবে না।

বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা কঠোর করা হবে বলেও জানিয়েছিল বিজেপি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস না হলেও সাংসদের ওপরে হামলার ঘটনা নিয়ে সাফাই দিয়েছে বিজেপি। রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, বিজেপি ছিল বলে তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়কেরা অক্ষত রয়েছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “এগুলি কোনও সুস্থ সমাজে কাম্য নয়। কারোর ক্ষোভ থাকতে পারে, বিদ্বেষ থাকতে পারে, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাচ্ছেন এটা সুস্থ স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক সমাজের কাছে কাম্য নয়।” এর পরেই তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে ঔদ্ধত্য এবং একদলীয় একচেটিয়া একাধিপত্যবাদ, দীর্ঘদিন চলতে পারে না। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে আমার দল দূর-দূর পর্যন্ত যুক্ত নয়।”

পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি, “পুলিশ কেন নেই, সেটা তো আমি বলতে পারি না। আমিতো দলের প্রতিনিধি। সেটা রাজ্য সরকার বলতে পারবে।” রাজ্য সভাপতি শমীকের বক্তব্য, “বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীকে উত্তরবঙ্গে গাড়ির মধ্যে জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। বিরোধী দলনেতাকে সভা-সমিতি করবার জন্য ১০৪ বার হাই কোর্টের দরজায় যেতে হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস অনেক অত্যাচার করেছে। আমাদের কর্মীদের সঙ্গে, মহিলাদের সঙ্গে। আমরা সংযত আছি বলে ছিলাম বলেই আজকে তৃণমূল কংগ্রেস অক্ষত আছে।”


Share