Abhishek Banarjee

অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় সোনারপুর থানার স্বতঃপ্রণোদিত মামলা, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে গ্রেফতার ৫

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সোনারপুর থানা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৪:৪০

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ও অন্যান্য ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রথমে চার জনকে গ্রেফতার করা হলেও পরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত এগোলে গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সোনারপুর থানা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে।

পুলিশের দাবি, ধৃতদের নাম আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, তপন মাইতি এবং নির্মাল্য সেনগুপ্ত। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েত, হামলা, পথ অবরোধ, গালিগালাজসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সকলেই রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছনোর পরই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং পাথর ছোড়া হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ‘চোর চোর’ স্লোগানও দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিজেকে রক্ষা করতে মাথায় হেলমেট পরেন অভিষেক। তবুও ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার পর নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান অভিষেক। পরে বিকেলের দিকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় তাঁকে এলাকা থেকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। ঘটনার জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই হামলার ছক কষা হয়েছিল এবং তাঁর সফরের খবর আগে থেকেই জানত বিজেপি। ঘটনায় আইনি পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর সোনারপুর থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন ভিডিয়ো ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।

এ দিকে, ঘটনার সময় পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে পৌঁছেছিল বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। হামলার পর অভিষেককে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন তিনি। পরে অভিষেককে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানেও তাঁকে ভর্তি করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থা ভর্তি হওয়ার মতো গুরুতর ছিল না। এরপর তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, হামলার জেরে অভিষেকের বুকে রক্ত জমাট বেঁধেছে। ঘটনার পর থেকেই দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছিল তৃণমূল। দলের তরফে প্রকাশ করা কয়েকটি ভিডিয়োতে হামলায় জড়িত কিছু ব্যক্তির সঙ্গে বিজেপির যোগ থাকার দাবিও করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীওয়াল-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক নেতা এই ঘটনার নিন্দা করেছেন।


Share