Abhishek Banarjee

সোনারপুরে বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিম ছুঁড়েলেন সাধারণ মানুষ, কটাক্ষ বিজেপির

সোনারপুরের ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে দূর-দূরন্তে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। এই ধরণের ঘটনা কোনও সুস্থ সমাজের কাম্য নয়। পুলিশ কেন এল না তা আমি বলতে পারব না। আমি দলের প্রতিনিধি। তাই এই প্রশ্নের উত্তর রাজ‍্য সরকার দিতে পারবে।”

সোনারপুরে বিক্ষোভের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৮:১০

সোনারপুরে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে দেখানো হল কালো পতাকা দেখানো হয়েছে। ডিম ছোঁড়ারও অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে নিরাপত্তারক্ষীরা হেলমেট পরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে বের করে নিয়ে যান। সংবাদমাধ্যমের  সাংসদের জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ৪ মে নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। তার এতদিন পরে শনিবার বিকেলে সোনারপুরে এক মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাচ্ছিলেন। দলীয় এক কর্মীর বাইকে চড়ে তিনি যাচ্ছিলেন। অভিষেকের যাওয়ার পথে কামালগাজী মোড়ের কাছে তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়। এমনকি 'চোর চোর' স্লোগানও দেওয়া হয়। যদিও এই সব ঘটনায় কোনও আমল দিচ্ছেন না বলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেকথা জানান।

দলীয় কর্মীর বাইকে চড়ে যখন সোনারপুরে ঢোকেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন তাঁকে ঘিরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। নিরাপত্তারক্ষীরা জনতার মধ্যে থেকে তাঁকে বের করার চেষ্টা করে। তাঁর সুরক্ষার জন্য তাঁকে পরিয়ে দেওয়া হয় একটি হেলমেটও। এরপরই তাঁর দিকে ডিম ছুঁড়তে থাকে উত্তেজিত জনতা। তেমনই ‘চোর চোর’ স্লোগানও ওঠে। যে জায়গায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এই বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়, সেখান থেকে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ি অনেকটা দূরে ছিল। ফলে, বাকি রাস্তা হেঁটেই ওই কর্মীর বাড়ির দিকে এগোতে থাকেন ডায়মন্ড হারবার তৃণমূল সাংসদ।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে বাইকে করে সোনারপুরে ঢুকছিলেন, তৃণমূল কর্মীরা সেই বাইক রাস্তায় ফেলে রেখে দিয়েই আসেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যত এগোতে থাকেন, একই সঙ্গে তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হতে থাকে ডিম-জুতো। চর-থাপ্পড়ও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। আর এই আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সংসদের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয় একটি হেলমেটও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এই ধুন্ধুমারের মধ্যে ছিঁড়ে যায় তাঁর জামা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “কোথাও পুলিশ নেই। আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষের রাতে যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে এত ভয় কেন। আমি সাংসদ। এই ঘটনার সব ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। তা নিয়ে হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে যাব।”

অন‍্য দিকে, সোনারপুরের ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে দূর-দূরন্তে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। এই ধরণের ঘটনা কোনও সুস্থ সমাজের কাম্য নয়। পুলিশ কেন এল না তা আমি বলতে পারব না। আমি দলের প্রতিনিধি। তাই এই প্রশ্নের উত্তর রাজ‍্য সরকার দিতে পারবে।”


Share