Donald Trump

নিজের নামে কেনেডি সেন্টার! ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে আদালতের কড়া ধাক্কা, ফের পুরনো নাম ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

বিচারক কুপারের সমালোচনা করে ট্রাম্প লেখেন, বিচারকের এই সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর লজ্জিত হওয়া উচিত। ট্রাম্পের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে বিচারক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবস্থান নিয়েছেন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০২:১৫

ফের আইনি ধাক্কার মুখে পড়লেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রয়াত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নামাঙ্কিত ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস’-এর নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ফেডারেল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে কেন্দ্রটির পুরনো নাম পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল তা আইনি বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

রায়ের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে তিনি দাবি করেন, আমেরিকার ইতিহাসে কোনও প্রেসিডেন্ট তাঁর মতো এত অন্যায় আচরণের শিকার হননি। বিচারক কুপারের সমালোচনা করে ট্রাম্প লেখেন, বিচারকের এই সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর লজ্জিত হওয়া উচিত। ট্রাম্পের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে বিচারক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবস্থান নিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশের পর কেনেডি সেন্টারের প্রশাসনিক দায়িত্ব ফের কংগ্রেসের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তরের জন্য বাণিজ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে কেনেডি সেন্টারের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, আর্থিক ক্ষতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। গত কয়েক বছরে কেন্দ্রটি বিপুল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সেই কারণেই এর পরিকাঠামোগত ও নান্দনিক উন্নয়ন জরুরি বলে মত তাঁর।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক সিদ্ধান্ত আদালতের বাধার মুখে পড়েছে। শুল্কনীতি, অভিবাসন সংক্রান্ত পদক্ষেপ এবং ফেডারেল কর্মীবাহিনীতে পরিবর্তন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করেছে আদালত। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হল কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিতর্কও, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরও একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


Share