Business Strategy

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কোপে চার ভারতীয় সংস্থা! তালিকায় তিন ভারতীয় নাগরিকও

ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক বা আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ, সংস্থা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সেই নীতিরই অংশ হিসেবে এ বার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ভারতের চারটি সংস্থা জায়গা করে নিয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৫

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগে চার ভারতীয় সংস্থা আমেরিকার আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ল। একই তালিকায় তিন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের তরফে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ রাখা সংস্থা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতেই আমেরিকা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে অভিযান চালাচ্ছে। তেহরানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ইরানকে আর্থিক ভাবে চাপে রাখাই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক বা আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ, সংস্থা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সেই নীতিরই অংশ হিসেবে এ বার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ভারতের চারটি সংস্থা জায়গা করে নিয়েছে। পাশাপাশি তিন ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

আমেরিকার অর্থ দফতরের দাবি, ‘সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রায় ছ'কোটি ৯০ লক্ষ ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে। আমেরিকার প্রশাসনের অভিযোগ, ‘পিপি সফ্‌টটেক প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘প্রাকৃতিস ইনফ্রা ইনপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ এই দুই সংস্থাও প্রায় দু'কোটি ৫০ লক্ষ ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে। একই অভিযোগে ‘কাস্টমস ব্রোকার পোর্টিজ পার্টনার্স এলএলপি’-র বিরুদ্ধেও আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ইরানের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে তিন ভারতীয় নাগরিকের উপরও ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ওই তিন জনই আগে উল্লেখিত সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন ‘পিপি সফ্‌টটেক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ডিরেক্টর প্রশান্ত গর্গ এবং ‘কাস্টমস ব্রোকার পোর্টিজ়’-এর দুই অংশীদার হরিশ রামচন্দ্র রঙ্গির ও ইন্দ্রিষ্মীয়া আশারফমিয়া শেখ।

আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান সরকারের উপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ানো হবে। তিনি এই অভিযানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বলেও উল্লেখ করেছেন। ওয়াশিংটনের তরফে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যে কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন বা যোগসূত্রের জেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এর আগে ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যে সমস্ত দেশ ইরানকে ‘লাইফলাইন’ দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও আমেরিকা পদক্ষেপ করবে। অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য। তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের দাবি, আমেরিকার যে কোনও হুমকির জবাব দিতে তাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত। প্রয়োজনে সেই জবাব ‘ধ্বংসাত্মক’ হতে পারে বলেও তাঁরা সতর্ক করেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথবাহিনীর ইরানে হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলিও একাধিক বার হামলার মুখে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশ আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ইরান যাতে কোনও ভাবেই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই আমেরিকা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। অন্য দিকে, তেহরানও নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। এরই মধ্যে আমেরিকার নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


Share