BRICS Summit

সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং! ৪০০ জনের বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে ব্রিক্‌স সম্মেলনে আসার সম্ভাবনা, মোদীর সঙ্গে বৈঠকের জল্পনা

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর পর শি-র ভারত সফর হলে নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কের দীর্ঘ টানাপড়েনের মধ্যেই কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ‘বরফ গলার’ সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং শি জিনপিং (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ১১:০২

প্রায় ৪০০ জনের প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে ব্রিক্‌স শীর্ষসম্মেলনে যোগ দিতে পারেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিদেশ মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর পর শি-র ভারত সফর হলে নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কের দীর্ঘ টানাপড়েনের মধ্যেই কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ‘বরফ গলার’ সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিক্‌স শীর্ষসম্মেলন বসতে চলেছে। ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের পর এ বার চতুর্থ বার ব্রিক্‌স-এর সম্মেলন আয়োজনের পাশাপাশি ভারত সভাপতিত্বের দায়িত্বও পেয়েছে। এ বারের সম্মেলনে উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সুস্থিতি বৃদ্ধিকে মূল বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে শীর্ষসম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে বলে বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্রের দাবি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিনপিংয়ের সফর ঘিরে নয়াদিল্লির চিনা দূতাবাসের আধিকারিকেরা ইতিমধ্যেই হোটেল এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রোটোকল চূড়ান্ত করার কাজে ব্যস্ত। এরই মধ্যে অরুণাচল প্রদেশের একাধিক এলাকার নাম পরিবর্তন নিয়ে সম্প্রতি নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জিনপিং ব্রিক্‌স সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। ফলে মোদী-জিনপিং সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে কূটনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের ভারত সফর নিয়ে এখনও পর্যন্ত বেজিঙের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। দু’দিনের চিন সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ স্তরের বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। পাশাপাশি চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেঙের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে আসন্ন ব্রিক্‌স শীর্ষসম্মেলন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, মঙ্গলবার জিনপিঙের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।

প্রসঙ্গত, ব্রিক্‌সের প্রতিষ্ঠাতা পাঁচ সদস্য ভারত, চিন, রাশিয়া, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি বর্তমানে এই গোষ্ঠীতে রয়েছে মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে ব্রিক্‌সের সদস্যপদের জন্য পাকিস্তানও আনুষ্ঠানিক ভাবে আবেদন করেছিল। তবে এখনও পর্যন্ত ইসলামাবাদকে সদস্যপদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

২০১৯ সালের পর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আর ভারতে আসেননি। সে বার প্রায় ২০০ সদস্যের চিনা প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি ভারতে এসেছিলেন। তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জিনপিংকে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই সফরের এক বছরের মধ্যেই ভারত-চিন সম্পর্কে বড় ধাক্কা আসে। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) নিয়ে চিনা সেনার সঙ্গে ভারতীয় বাহিনী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রক্তক্ষয়ী সেই সংঘর্ষে এক কর্নেল-সহ ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিনও সরকারি ভাবে তাদের চার সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। যদিও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গালওয়ান সংঘর্ষে চিনের অন্তত ৩৮ জন সেনার মৃত্যু হয়েছিল।

গালওয়ানের ঘটনার পর থেকেই নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময়ও চিন প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে ফের কিছুটা বরফ গলতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের ৩১ অগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মোদী চিন সফরে গিয়েছিলেন। তিয়ানজিনে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-র শীর্ষবৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি জিনপিংয়ের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠকও করেন।


Share