Attempted to Suicide

কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম শান্তিপুরে, সালিশি সভা ডেকে নাবালককে মারধর, হেনস্তার পর আত্মহত্যার চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দায়ের

কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে শান্তিপুরে নাবালককে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও সালিশি সভায় পরিবারের সদস্যদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। চরম অপমানের পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই নাবালক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:১৭

কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় নদিয়ার শান্তিপুরে। অভিযোগ, এক নাবালককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকী, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে সালিশি সভা ডেকে পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, চরম অপমান ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ওই নাবালক গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে সে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুরের নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রফুল্লনগর মণ্ডলপাড়া এলাকায়। আক্রান্ত নাবালকের নাম অর্জুন প্রামাণিক।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ তারিখে বন্ধুদের সঙ্গে এলাকার একটি কলাবাগানে অর্জুন গিয়েছিল। সেখানে তার বন্ধুরা কয়েকটি কলাগাছ ক্ষতিগ্রস্ত করলেও অর্জুন ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল না বলে পরিবারের দাবি করেছে। এমনকী, জমির মালিকের তরফেও তাঁদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।

এর পরই স্থানীয় বাসিন্দা বলরাম বিশ্বাস হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে অর্জুনকে রেললাইনের কাছে ডেকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের জেরে অর্জুনের কান ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসে বলেও অভিযোগ।

ঘটনার পর ১৯ তারিখে এলাকায় সালিশি সভা ডাকা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই সভায় অর্জুনকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ‍ভাষায় গালিগালাজ এবং অপমান করা হয়। ছেলেকে অপমানের প্রতিবাদে অর্জুনের মা অভিযুক্ত বলরাম বিশ্বাসকে চড় মারেন। এরপর বলরামের পরিবারের সদস্যরা অর্জুনের মা ও দিদির উপর চড়াও হয়। তাঁকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, সালিশি সভায় অপমান এবং পরিবারের সদস্যদের মারধরের ঘটনায় মানসিক ভাবে অর্জুন ভেঙে পড়ে। এরপর বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের সদস্যরা দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

আক্রান্ত পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল। পরিবারের দাবি, অর্জুনের বাবা শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী। মা আয়ার কাজ করেন। দিদি মোবাইলের দোকানে কাজ করেন। দাদা দিনমজুর। পরিবারের অভিযোগ, এলাকার প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের উপর জোরজুলুম চালানো হচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগে অর্জুনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শান্তিপুর থানায় বলরাম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

যদিও অভিযুক্ত বলরাম বিশ্বাসের মা জানিয়েছেন, তাঁদের কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগেই তাঁর ছেলে অর্জুনকে বকাবকি করেছিলেন। তবে গোটা ঘটনা সম্পর্কে তাঁর ছেলে আরও বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে তিনি জানান। ঘটনার পর থেকেই বলরাম বিশ্বাস এলাকাছাড়া বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুদীপ প্রামাণিক বলেন, অনৈতিক ভাবে সালিশি সভা ডেকে একটি পরিবারকে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পুলিশ প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশাবাদী।

শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি চঞ্চল চক্রবর্তীও ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যে ছেলে ঘটনার সঙ্গে যুক্তই নয় বলে পরিবারের দাবি, তাকে কেন এভাবে অপদস্ত করা হল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। পরিবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে এবং পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঘটনায় শান্তিপুর থানার তদন্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।


Share