Fire Incident

শান্তিপুরে পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ লড়ি পাট, ছ’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে

শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী হাসিবুল শেখ। ঘটনার তদন্তে নেমে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।

আগুন নেভাতে তৎপর দমকলকর্মী
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ০১:১৫

মধ্যরাতে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল পাটের গুদাম। শান্তিপুর ও রানাঘাট দমকল কেন্দ্রের কর্মীদের প্রায় ছয় ঘণ্টার টানা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন আসে। তবে ততক্ষণে প্রায় পাঁচ লরি পাট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ব্যবসায়ীর দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে তিনি নাশকতার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।

রবিবার রাত প্রায় একটা নাগাদ শান্তিপুরের হরিপুর পঞ্চায়েতের চাঁদকুড়ি এলাকায় ব্যবসায়ী হাসিবুল শেখের পৈতৃক পাটের গুদামে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়ায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে চাপাকল থেকে বালতিতে জল এনে এবং আশপাশের বাড়ির পাম্প চালিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে তাঁদের সেই চেষ্টা খুব একটা কাজে আসেনি।

শান্তিপুর থানা ও দমকল কেন্দ্রে খবর দেওয়া হয়। রাত দুটো নাগাদ শান্তিপুর থেকে একটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। আগুনের ভয়াবহতা দেখে পরে রানাঘাট থেকেও বড় জলাধার-সহ আরও একটি ইঞ্জিন এবং প্রায় ২৫ জন দমকলকর্মী ঘটনাস্থলে আনা হয়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টার পর ভোর পাঁচটা নাগাদ আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পাটের গাঁটের ভিতরে আগুন ও ধোঁয়া থাকায় সকাল আটটা পর্যন্ত জল দিয়ে সম্পূর্ণ আগুন নেভানোর কাজ চলে।

ব্যবসায়ী হাসিবুল শেখের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিনি রাতে ঘুমোতে যান। তাই শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে গুদামে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে। আগের দিন বালিয়াডাঙা মোড়ে দুই অপরিচিত ব্যক্তিকে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। চায়ের দোকানে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, মাঝেমধ্যেই গুদাম থেকে পাট চুরির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীর।

অগ্নিকাণ্ডে প্রায় পাঁচ লরি পাট পুড়ে যাওয়ায় আনুমানিক ৭০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি হাসিবুল শেখের। বর্তমানে পাটের বাজার মন্দা থাকায় তিনি ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। গুদাম ও বিপুল পরিমাণ পাট পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। গুদামের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং নাশকতার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।


Share