Health Corruption

ফের স্বাস্থ্যসাথীর টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ বর্ধমানের হাসপাতালে, কাঠগড়ায় চিকিৎসক ও বিলিং ব্যবস্থা

চিকিৎসকের অনুমোদন ও বিলের নামে কারচুপি, ভুয়ো পরিচয়ে চিকিৎসা এবং চিকিৎসার খরচ বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগ করেছে বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সেন্টার। অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যদফতরের কাছে তথ্য জমা দিয়ে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে সংগঠন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ০৮:০০

বর্ধমানে ফের একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের টাকা নয়ছয় এবং চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠল। সরকারি অর্থের ব্যবহারে অনিয়ম, চিকিৎসকের নামে কারচুপি-সহ একাধিক অভিযোগ সামনে এনেছে বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সেন্টার। সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনের তরফে হাসপাতালের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ কুদরত-উল-আবেদিনের অভিযোগ, ওই হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের বিপুল অর্থ নিয়ে অনিয়ম করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যদফতর এক চিকিৎসককে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় অস্ত্রোপচার করার অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করেছিল। কিন্তু তারপরও ওই চিকিৎসক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করছেন বলে অভিযোগ। অথচ সেই অস্ত্রোপচারের স্বাস্থ্যসাথীর বিল তৈরি হচ্ছে পার্থরঞ্জন বিশ্বাস, রণজিৎ পাল এবং সন্তোষপ্রসাদ সিংহ—এই তিন চিকিৎসকের নামে। সংগঠনের দাবি, এই পদ্ধতি নিয়মবহির্ভূত।

এছাড়াও এক রুশ ডিগ্রিধারী চিকিৎসককে মেডিসিনের ‘এমডি’ পরিচয়ে রোগী দেখানোর অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি। তাঁর চিকিৎসাগত যোগ্যতা এবং হাসপাতালে তাঁর পরিচয় কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে হাসপাতালের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

চিকিৎসার বিল নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেছে ক্রেতা সুরক্ষা সংগঠন। তাদের দাবি, সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশির মতো সমস্যায় চিকিৎসা করাতে গেলেও বিভিন্ন প্রক্রিয়া বা অস্ত্রোপচারের নাম দেখিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর বিল বাড়ানো হচ্ছে। অভিযোগ, কোনও কোনও ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার প্যাকেজের জায়গায় প্রায় ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল দেখানো হয়েছে।

সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগের স্বপক্ষে রোগী ও তাঁদের পরিবারের তালিকা-সহ বিভিন্ন তথ্য স্বাস্থ্যদফতরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেও একই হাসপাতালকে ঘিরে অভিযোগ সামনে এসেছিল বলে দাবি সংগঠনের। সেই ঘটনার পর স্বাস্থ্যদফতরের নজরেও বিষয়টি আসে বলে জানানো হয়েছে। এবার নতুন করে অভিযোগ ওঠায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত ওই হাসপাতালকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক।

তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত চিকিৎসকদের কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


Share