Sukanta Majumdar

পুরভোটে বিজেপির টিকিট পেতে ২৬ অক্টোবরই শেষ দিন! প্রার্থী বাছাইয়ে জয়ের সম্ভাবনা ও ভাবমূর্তিতে জোর সুকান্তর

আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে প্রার্থী হওয়ার আবেদনপত্র জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তাও স্পষ্ট করেছেন বিজেপির এই নেতা।

সুকান্ত মজুমদার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৫

রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি ঘিরে তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিজেপি। কালীপুজোর পর, অর্থাৎ নভেম্বরের শেষ দিকে পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। এবার পুরভোটে বিজেপির টিকিটে লড়তে ইচ্ছুকদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরভোটে বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার। আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে প্রার্থী হওয়ার আবেদনপত্র জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তাও স্পষ্ট করেছেন বিজেপির এই নেতা।

সুকান্ত জানিয়েছেন, পুরভোটে লড়তে আগ্রহী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা রয়েছে। তবে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের পুরনো কার্যকর্তা ও কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অর্থাৎ, সমাজের পরিচিত মুখদের স্বাগত জানালেও দলের সাংগঠনিক কর্মীদের গুরুত্ব দিতে চাইছে বিজেপি।

প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে জয়ের সম্ভাবনাকে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তি কেমন এবং স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।

শুধু শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়, দলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরের মতামত নিয়েও প্রার্থী তালিকা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। বুথ স্তর থেকে শুরু করে দলের উচ্চস্তর পর্যন্ত নেতাদের পরামর্শ ও মতামত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রার্থী তালিকা প্রকাশেও বেশি দেরি করতে চায় না বিজেপি। সুকান্তর দাবি, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। ফলে পুরভোটের আগে দ্রুত সাংগঠনিক প্রস্তুতি সেরে নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

এ দিকে, প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিজেপির টিকিটে লড়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিজেপির যাঁরা পুরনো কার্যকর্তা, যাঁরাই ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের বিশেষ গুরুত্ব। রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছুই হয় না।”

তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিজেপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা টিকিট পাবেন, তা নির্ভর করবে দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাঁদের জয়ের সম্ভাবনার উপর।


Share