Annapurna Yojna

স্বামী রেলকর্মী, তবুও অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায় বিজেপি কাউন্সিলর ও মেয়ের নাম! ভাইরাল তালিকা ঘিরে বিতর্ক মালদহে

বিষয়টি নিয়ে কাউন্সিলার বাসন্তী রায় নিজেও জানিয়েছেন, তিনি একবার অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতার টাকা পেয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে তিনি আর সেই টাকা আর পাচ্ছেন না।

বিজেপি কাউন্সিলর বাসন্তী রায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০৭

স্বামী রেলে চাকরি করেন। স্ত্রী বিজেপির কাউন্সিলর। অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। এমনই একটি তালিকা ভাইরাল হয়েছে। শুধু তিনিই নন তাঁর মেয়েও সেই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এমন তালিকা ভাইরাল হওয়ার পর থেকে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিজেপি কাউন্সিলরের নাম বাসন্তী রায়। তিনি মালদহ পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির কাউন্সিলর। তাঁর মেয়ের নাম সুস্মিতা রায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাউন্সিলর বাসন্তীর স্বামী লব রায় ভারতীয় রেলে চাকরি করেন। পরিবার আর্থিক ভাবেও স্বচ্ছল। এমন পরিস্থিতিতে অন্নপূর্ণা যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তার তালিকায় কাউন্সিলর ও তাঁর মেয়ের নাম কীভাবে এল, তা নিয়ে স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা প্রশ্ন তুলেছেন।

বিষয়টি নিয়ে কাউন্সিলার বাসন্তী রায় নিজেও জানিয়েছেন, তিনি একবার অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতার টাকা পেয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে তিনি আর সেই টাকা আর পাচ্ছেন না।

এদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলের অভিযোগ রয়েছে। দাবি, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বহু মহিলা এখনও ভাতা পাচ্ছেন না বলে করেছেন। অনেকেই আবেদন করার পরেও ‘আন্ডার প্রসেস’ বা ‘পেন্ডিং’ অবস্থায় রয়েছেন। পরবর্তীতে টাকা আদৌ পাবেন কি না তা জানতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ প্রথম দু’মাসের টাকা পাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে আর পাননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই তালিকা ভাইরাল হওয়ার পরে পুরাতন মালদহ পুরসভা এলাকায় নতুন করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক গৃহবধূ মালতী মণ্ডলের অভিযোগ, তাঁদের বাড়িতে দুটি ঘর ও একটি রান্নাঘর রয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে তথ্য যাচাই করা হলেও এখনও তাঁদের নাম ভাতাপ্রাপকদের তালিকায় আসেনি। মালতীর প্রশ্ন, “কাউন্সিলর নিজেই ভাতা পাচ্ছেন। তাঁর স্বামী রেলকর্মী। তার পরেও কীভাবে তিনি এই সুবিধা পেলেন?”

একই অভিযোগ হেমলতা পাল নামে এক মহিলার। তিনি পরিচারিকার কাজ করেন। তাঁর স্বামী শ্রমিকের কাজ করেন বলে দাবি। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা এখনও ভাতার টাকা পাননি। অথচ কাউন্সিলরের নাম তালিকায় থাকায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য হচ্ছে কি না বলে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিয়ে এর আগে পুরাতন মালদহ পুরসভার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। পুরসভার গেটে তালা দিয়ে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, যোগ্য বিজেপি সমর্থকদের বঞ্চিত করে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠদের নাম তালিকায় তোলা হচ্ছে।

অন্য দিকে, গোটা বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কাউন্সিলার বাসন্তী রায়। তাঁর দাবি, সরকারি চাকরি করা মহিলাদের ভাতা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি আগে এক ধরনের নিয়ম শুনেছিলেন। বর্তমানে পরিবারের কর্তা সরকারি চাকরি করলেও ভাতা পাওয়া যাবে না— এমন নিয়মের কথা তিনি শুনেছেন বলে জানান। তাঁর এ-ও বক্তব্য, ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকলে সেই অর্থ তিনি ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারতেন।

বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রতাপ সিংহ বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জনপ্রতিনিধি বা সাধারণ মানুষ— যোগ্য হলে যে কেউ পেতে পারেন। তবে যোগ্যতা না থাকলে কেউ এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নন।

ফলে এখন মূল প্রশ্ন, অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাসন্তী রায় ও তাঁর মেয়ে এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না এবং তাঁদের নাম কীভাবে উপভোক্তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হল? বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।


Share