House Set on Fire

‘সম্পর্ক রাখব না’ বলেছিলেন প্রেমিকা, ফোনেও সাড়া মেলেনি! রাগের বশে প্রেমিকার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, দগ্ধ বাবা ভর্তি হাসপাতালে

অভিযোগ, সেই রাগ থেকেই প্রেমিকার বাড়িতে তিনি আগুন লাগিয়ে দেন। আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন প্রেমিকার ৬৫ বছরের বাবা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লি এলাকায়।

আগুন নেভানোর চেষ্টায় দমকলকর্মীরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার
  • শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৫

কয়েক দিন ধরে প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে চলছিল মনোমালিন্য। দিন তিনেক আগে সম্পর্ক আর রাখতে চান না বলে প্রেমিককে জানিয়ে দিয়েছিলেন তরুণী। তার পর একাধিক বার ফোন করেও সাড়া পাননি যুবক। অভিযোগ, সেই রাগ থেকেই প্রেমিকার বাড়িতে তিনি আগুন লাগিয়ে দেন। আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন প্রেমিকার ৬৫ বছরের বাবা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লি এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে সুকান্তপল্লির একটি বাড়িতে আচমকাই আগুন লাগে। প্রতিবেশীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। দমকলে খবর দেওয়া হয়। পরে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাড়ির ভিতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নরেশ ঘোষকে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। স্থানীয় কয়েক জনের দাবি, ঘটনার সময় নরেশ মত্ত অবস্থায় ছিলেন।

এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য তাঁর মেয়ে মঞ্জু ঘোষ অনিল সরকার নামে এক যুবককে দায়ী করেছেন। মঞ্জুর দাবি, নিজের চোখে তিনি অনিলকে তাঁদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, ঘটনার আগে তাঁর বাবার সঙ্গে বসে মদ খেয়েছিলেন অনিল। তার পর নরেশকে ঘরের ভিতরে রেখে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

শনিবার মঞ্জু জানান, অনিলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দিন তিনেক আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আর এই সম্পর্ক রাখতে চান না। তাঁর অভিযোগ, সেই রাগেই অনিল বাড়িতে আগুন লাগিয়েছেন। মঞ্জুর কথায়, ‘‘আমায় বার কয়েক ফোন করেছিল। আমি ফোন বন্ধ করে দেওয়ায় আমার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। দুপুরে আমি বাড়িতে ছিলাম না। তখন বাবার সঙ্গে বসে মদ খেয়েছে। তার পর ওই কাজ করেছে।’’

মঞ্জুর আরও দাবি, বাড়ি ফেরার সময় অনিলকে দেখতে পেয়ে তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে লুকিয়ে পড়েন। তাঁর আশঙ্কা, সামনে পড়লে তাঁকেও ওই যুবক মারধর বা খুন করতে পারতেন। দগ্ধ নরেশের শারীরিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তাঁর মেয়ে। তিনি অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার পর অনিলকে কয়েক জন ধরে মারধরও করেন। তবে মঞ্জুর অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করেনি পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার নেপথ্যে কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরেও সুকান্তপল্লি এলাকায় চাঞ্চল্য ছিল।


Share