Kolkata Police

আলিপুরের পুলিশ ব‍্যারাকের শৌচাগার থেকে আধিকারিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু, অতিরিক্ত কাজের চাপ?

পুলিশ সূত্রের খবর, আলিপুরের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের কমান্ডো ব‍্যারাকের তিন তলার একটি শৌচাগারে তিনি যান। অনেক বেশি সময় ধরে তিনি শৌচাগার থেকে না বের হলে ডাকাডাকি শুরু করেন। তার পরে শৌচাগারের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দীপককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ব্যারাকপুর
  • শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:১১

আবার পুলিশ ব‍্যারাক থেকে আধিকারিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের নাম দীপক তামাং (৪৯)। তিনি কলকাতা পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীতে সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দীপক তামাং কালিম্পংয়ের সাত মাইলের ২৫ ধাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি কর্মসূত্রে আলিপুরের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের ব‍্যারাকে থাকতেন। দীপক কলকাতা পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীতে সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। কমান্ডো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আধিকারিক ছিলেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, আলিপুরের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের কমান্ডো ব‍্যারাকের তিন তলার একটি শৌচাগারে তিনি যান। অনেক বেশি সময় ধরে তিনি শৌচাগার থেকে না বের হলে ডাকাডাকি শুরু করেন। তার পরে শৌচাগারের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দীপককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সকাল ৯টা ৫০ নাগাদ আলিপুর থানার পুলিশের কাছে খবর যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকেরা দীপককে মৃত বলে ঘোষণা করে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দীপক শৌচাগারে ভিতরে পাইপের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস বানিয়ে নিজের গলায় পেঁচিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। শৌচাগারের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। সহকর্মীদের সাহায্যে ফাঁসের দড়ি কেটে দীপককে নামানো হয়েছে। যে সময় দেহ উদ্ধার হয়, সেই সময় দীপকের মুখ থেকে লালা ঝরছিল। যৌনাঙ্গ থেকে বীর্যপাতের চিহ্নও লক্ষ্য করেছে পুলিশ।

ঘটনার পরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি। এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কোনওরকম অস্বাভাবিক কিছু থাকার প্রমাণ মেলেনি। অন্য কেউ জড়িত থাকারও প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই তা পরিষ্কার হবে বলে পুলিশ মনে করেছে। কোনও পক্ষ থেকেই আলিপুর অভিযোগ দায়ের করেনি। আদৌ দীপকের ওপরে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না তা সহ্য করতে না পেরে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।


Share