বর্ধমানে ক্যানালের ধারে উদ্ধার আদিবাসী মহিলার দেহ, মৃত্যু ঘিরে রহস্য, তদন্তে পুলিশ

বর্ধমানে ক্যানালের ধারে উদ্ধার আদিবাসী মহিলার দেহ, মৃত্যু ঘিরে রহস্য, তদন্তে পুলিশ

পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মৃত্যুর উল্লেখ রয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৩:৪৬

বর্ধমানে এবার ক্যানেল থেকে উদ্ধার মহিলার মৃতদেহ। বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে ক্যানালের ধার থেকে এক আদিবাসী মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের নাম রানি হেমব্রম (২৮)। মঙ্গলবার সকালে পালিতপুর এলাকার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পুলিশ তাঁর দেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়ানদিঘি থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে মৃতার পরিবারের দাবি, রানিকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ পুলিশ। তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মৃত্যুর উল্লেখ রয়েছে।

মৃতার ভাই সোম হাঁসদার বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে রানি, তাঁর স্বামী নীলু হেমব্রম এবং পরিচিত কয়েকজন বাড়ির পাশের একটি মাঠে একসঙ্গে বসে মদ্যপান করেছিলেন। বিকেল প্রায় চারটে নাগাদ রানি বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, তাঁর স্বামী তখনও বাড়ি ফেরেননি। এরপর স্বামীকে খুঁজতে বাড়ি থেকে তিনি বেরিয়ে যান।

পরিবারের দাবি, কিছুক্ষণ পর নীলু হেমব্রম বাড়ি ফিরে আসেন। স্ত্রীকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরাও বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে খোঁজে। কিন্তু রানির কোনও সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ক্যানালের ধারে জমির পাশে তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির উপরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।


Share