Suvendu Adhikari

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে বড় ঘোষণা

তবে বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে অন্য জল্পনাও। তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হত। এ বারও সেই অনুদান দেওয়া হবে কি না, বৈঠক থেকে সে বিষয়ে কোনও ঘোষণা বা বার্তা আসে কি না, তা নিয়েই পুজো কমিটিগুলির নজর রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩০

হাতে আর বড়জোর দেড় মাস। তারপরই ঢাকে কাঠি পড়বে, শারদোৎসবে মেতে উঠবে পুরো রাজ্য। পুজোর সেই আবহের আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা-সহ রাজ্যের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর এই বিশেষ বৈঠক হওয়ার কথা। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি, নিরাপত্তা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে অন্য জল্পনাও। তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হত। এ বারও সেই অনুদান দেওয়া হবে কি না, বৈঠক থেকে সে বিষয়ে কোনও ঘোষণা বা বার্তা আসে কি না, তা নিয়েই পুজো কমিটিগুলির নজর রয়েছে।

তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট-বড় দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে নিয়মিত আর্থিক অনুদান দিতেন। প্রতি বছর আগস্ট মাসে কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠক করে তিনি সেখানেই অনুদানের অঙ্ক ঘোষণা করতেন। পাশাপাশি বিদ্যুতের বিল, দমকল বিভাগের ছাড়পত্র-সহ একাধিক ক্ষেত্রেও পুজো কমিটিগুলিকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হত। গত বছর রাজ্যের প্রায় ৪৫ হাজার দুর্গাপুজো কমিটিকে এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছিল।

এ বার রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি প্রথম বার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। নতুন সরকারের আমলে এ বার দুর্গাপুজো ঘিরেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় আসতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এ বার পুজোয় সনাতনী রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আগের সরকারের মতোই কি পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া হবে, নাকি এ ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন আনবে নতুন সরকার তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্গাপুজো নিয়ে কী বিশেষ বার্তা দেয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।

শারদোৎসব শুধু বাঙালির আবেগের সঙ্গে নয়, বাংলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। পুজোর মরসুমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের যাতায়াত বাড়ে, ফলে উৎসবের সঙ্গে পর্যটনেরও যোগ তৈরি হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বার রাজ্যে শারদোৎসব কী ভাবে পালিত হবে, প্রশাসনের তরফে নিয়ম-নীতিতে কতটা ছাড় দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পুজো কমিটিগুলির বৈঠকে কোন কোন বিষয় উঠে আসে, সেদিকেও বিভিন্ন মহলের নজর রয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়। ফলে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে এ বারের পুজো ঘিরে প্রশাসনের প্রাথমিক পরিকল্পনার একটি স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


Share