Health

সরকারি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসে কড়া নিয়ম, ‘অ্যাডমিশন ডে’-র পর ৭২ ঘণ্টা নিষেধাজ্ঞা

নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

স্বাস্থ্য ভবন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ০২:০৭

সপ্তাহে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না সরকারি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা। সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসে কড়া বিধিনিষেধ জারি করে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতর। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে চিকিৎসকদের জন্য সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিন ‘অ্যাডমিশন ডে’ হিসেবে নির্ধারিত থাকে। ওই দিনে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তি হওয়া সমস্ত রোগীর দায়িত্ব থাকে নির্দিষ্ট এক চিকিৎসকের উপর। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে চিকিৎসকের যেদিন ‘অ্যাডমিশন ডে’ থাকবে, তার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা তিনি কোনও ধরনের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস রুলস, ২০০৬ অনুযায়ী এতদিন সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি ছিল। তবে নয়া নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর সেই অনুমতির ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, আগে থেকেই প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি পাওয়া সরকারি চিকিৎসকরাও নতুন নিয়মের আওতায় থাকবেন।

কিন্তু কেন এই কড়াকড়ি? স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের আরও ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। সেই কারণেই রোগী ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময় হাসপাতালে উপস্থিত থেকে পরিষেবা দেওয়া নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় রোগী ভর্তির পর ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হলেও, চূড়ান্ত নির্দেশে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের ব্যাখ্যা, এর ফলে সপ্তাহে ৭২ ঘণ্টা, অর্থাৎ মাসে প্রায় ১৫ দিন প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা সম্ভব হবে না। নয়া নির্দেশিকায় স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, রোগী পরিষেবার স্বার্থে এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রতিটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, ডিরেক্টর এবং সুপারের কাছে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকার কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।


Share