Hamim Mondal Case

জেলে থাকা গ‍্যাংস্টারকে সুপারি দিয়ে হত‍্যার পরিকল্পনা! রাজ‍্যে অস্থিরতা সৃষ্টির ছক ছিল হামিমের, ধৃত জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করল এনআইএ

পুলিশ সূত্রের খবর, শুধু হামিম নয় তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকেও এনআইএ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পাকিস্তানে বসে থাকা হ‍্যান্ডলারদের জেলে বসে থাকা এক গ‍্যাংস্টারের কথা জানিয়েছিল। পাকিস্তানের আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ শাহজাহাদ গোষ্ঠীর কাছে ওই গ‍্যাংস্টারের প্রোফাইল পাঠানো হয়েছিল।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ ০১:২১

পেশাদার গ‍্যাংস্টারকে দিয়ে ‘টার্গেট কিলিং’-এর পরিকল্পনা করেছিল ধৃত ইসলামিক জঙ্গি হামিম মন্ডল। এসটিএফ সূত্রের খবর, হামিমেরা পাকিস্তানের হ‍্যান্ডলারদের সঙ্গে মিলে রাজ‍্যে অস্থিরতা সৃষ্টির ছক করেছিল। তার জন‍্য ‘হাইপ্রোফাইলদের’ তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। হামিম বর্তমানে এসটিএফের লকআপে রয়েছে। ইতিমধ্যেই তাকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, শুধু হামিম নয় তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকেও এনআইএ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পাকিস্তানে বসে থাকা হ‍্যান্ডলারদের জেলে বসে থাকা এক গ‍্যাংস্টারের কথা জানিয়েছিল। পাকিস্তানের আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ শাহজাহাদ গোষ্ঠীর কাছে ওই গ‍্যাংস্টারের প্রোফাইল পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে একাধিক গ‍্যাংস্টার জেলে রয়েছে। তারা সেখানে বসেই আন্তঃরাজ‍্য অপরাধের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে বলে এসটিএফের ওই সূত্রটি দাবি করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা আধিকারিকেরা মনে করছেন, এদের ‘টার্গেটে’ শীর্ষস্থানীয় এক ব‍্যক্তি ছিল। ধৃত ইসলামিক জঙ্গি হামিম এবং তার নিয়োগ করা দলবল ওই শীর্ষস্থানীয় ব‍্যক্তির গতিবিধি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছিল। সেই তথ্য ‘এলিমেন্ট-X’ অ‍্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানের হ‍্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সাংবাদিক বৈঠকে এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা জানিয়েছিলেন, রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেই নিশানা করেছিল এই জঙ্গি হামিম মন্ডল ও তার সহযোগীরা।

তবে এই কাজ বাস্তবায়ন করতে জেলেবন্দি গ‍্যাংস্টারকে সুপারি দেওয়া হয়েছিল কি না তা তদন্ত সাপেক্ষ বলে বলে পুলিশ মনে করছে। তবে সূত্র মারফত এ-ও জানা গিয়েছে, দুবাইয়ে বসে থাকা আবিদ জাটের সঙ্গে ওই গ‍্যাংস্টারের যোগাযোগ করার কথা ছিল। এর মধ্যে হামিমকে গোপনীয়তার শর্তে রাখা হয়নি। তাই ওই গ‍্যাংস্টারকে জেলে গিয়ে এসটিএফের আধিকারিকের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। পুলিশের ওই সূত্রের বক্তব্য, হাওয়ালার মাধ‍্যমে টাকা ওই গ‍্যাংস্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

এই শাহজাহাদ গোষ্ঠীর লোকেরা নিজেদের আড়ালে রাখে। যে এলাকায় নাশকতামূলক কাজ করার পরিকল্পনা থাকে, সেখানকার দুষ্কৃতীদের টাকার বিনিময়ে কাজে লাগায়। এমন ঘটনা পঞ্জাবেও হয়েছিল। সেই ঘটনায় এই শাহজাহাদ গোষ্ঠীর নাম জড়িয়েছিল।

এদের নিশানায় রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রী, আইএএস অফিসার এবং আরএসএসের নেতা ছিলেন। তাঁদের তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বুলেটপ্রুফ গাড়িতে তিনি যাতায়াত করছেন। বাকিদের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে রাজ‍্য পুলিশের ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি।


Share