Sugar Prices

চিনির দাম কমাতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের, আমদানির পর দু'মাসেই বিক্রি বাধ্যতামূলক

একই সময়সীমার মধ্যে সেই পরিশোধিত চিনি বাজারেও বিক্রি করা বাধ্যতামূলক। ব্যবসায়ীরা যাতে চিনি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্র এই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪০

উৎসবের মরসুমে মিষ্টির বাজারে স্বস্তি ফেরাতে এবং লাগামছাড়া চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার কড়া পদক্ষেপ করল। কালোবাজারি ও মজুতদারি ঠেকাতে কাঁচা চিনি আমদানির নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, বিদেশ থেকে কাঁচা চিনি আমদানির পর সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে তা প্রক্রিয়াজাত করে রিফাইন্ড চিনিতে পরিণত করতে হবে। একই সময়সীমার মধ্যে সেই পরিশোধিত চিনি বাজারেও বিক্রি করা বাধ্যতামূলক। ব্যবসায়ীরা যাতে চিনি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্র এই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চিনির দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র এক মাসের মধ্যেই খুচরো বাজারে চিনির গড় দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে কেজি প্রতি ৬৩ টাকা পাঁচ পয়সায় পৌঁছেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খুচরো বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৭৫ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি চিনিকল থেকে বেরোনোর সময়ও চিনির দাম বেড়ে কেজি প্রতি প্রায় ৬২ টাকায় ঠেকেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি, আখের খেতে পোকার আক্রমণ, উৎপাদন হ্রাস এবং উৎসবের মরসুমে মজুতদারির প্রবণতাকেই এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কেন্দ্র ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

তবে দেশে চিনির ঘাটতি নেই বলেই ভারতীয় চিনি ও বায়ো-এনার্জি প্রস্তুতকারক সংস্থা দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত চিনির মজুত রয়েছে। কেন্দ্রের নতুন পদক্ষেপ কার্যকর হলে খুব দ্রুতই বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও তাঁরা আশাবাদী। খাদ্য মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, পোকার আক্রমণ ও অতিবৃষ্টির জেরে এ বছর দেশে চিনি উৎপাদন কিছুটা কমে প্রায় ৩০৬ লক্ষ টনে দাঁড়াতে পারে। যদিও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত জোগান দেশের হাতে রয়েছে।

এ দিকে, চিনির দাম বৃদ্ধির জন্য বিরোধীরক কেন্দ্রের ইথানল নীতিকেই দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ, জ্বালানি তৈরিতে আখ থেকে বেশি পরিমাণে ইথানল উৎপাদনের ফলে বাজারে চিনির জোগান কমেছে। যদিও কেন্দ্র বিরোধীদের এই দাবি খারিজ করেছে। খাদ্য সচিব সঞ্জীব চোপড়ার দাবি, ইথানল নীতির ফলে চিনি শিল্প আর্থিক ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং কৃষকরাও সময়মতো আখের দাম পাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে উৎসবের মরসুমে চিনির বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপের পথেই হাঁটছে কেন্দ্র। লক্ষ্য একটাই চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখা, দাম নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ কমানো।


Share